নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার দেওলী চৌড়াপাড়া এলাকায় ঘর নির্মাণে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে টেঁটা বিদ্ধ হয়েছেন চারজন।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ির ঘর মেরামতের সময় একদল চাঁদা দাবি করে। ঘরের মালিক পক্ষ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঘর তুলতে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। এর জের ধরে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় চলে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন—শিরিন, জুবায়ের, আ. মালেক, রুহুল আমিন, ওমর ফারুক মাকসুদ, আমির হোসেন, রিনা বেগম, রুনা আক্তার, পারভেজ, বাসেদ ও নাদিম। এদের মধ্যে অন্তত চারজন টেঁটা বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে আসমা আফরিন নামের একজন ভুক্তভোগী নারী বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন,
সাহিদ, নাহিদ, নাদিম, বাসেদ, রোমান, জুয়েল, পারভেজ, আল রেখা, মাহবুব ও সুমনসহ একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ বাড়ির ঘর নির্মাণে চাঁদা দাবি করে। না দিলে তারা ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলা করে। এমনকি থানা পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও হামলা চালায়।
খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্থানীয় মসজিদের মাইকে এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
পরবর্তীতে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিয়াকত আলী ও এএসপি সার্কেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেন।
ওসি লিয়াকত আলী বলেন, সংঘর্ষে জড়িত উভয় গ্রুপের বিরুদ্ধেই মামলা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।