দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে শিশুরা

কচুয়ায় জরাজীর্ণ ভবনে চলছে ৩৮ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম

কচুয়ায় ৩৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে জরাজীর্ণ ভবনে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এসব জরাজীর্ণ ভবনে চলছে নিয়মিত ক্লাস। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়ে সারাক্ষণই সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে।

জানা যায়, সম্প্রতি জরিপকাজ চালিয়ে শনাক্ত করা হয়েছে এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। এগুলো হলো-৬ নম্বর শুয়ারুল, ৭ নম্বর বারৈয়ারা, ৮ নম্বর ভাটিছিনাইয়া, ১৪ নম্বর বিতারা, ১৮ নম্বর শিলাস্থান, ২০ নম্বর উত্তর শিবপুর, ২৫ নম্বর সফিবাদ, ৪২ নম্বর বরুচর, ৪৪ নম্বর উত্তর উজানী, ৪৫ নম্বর ঘাগড়া, ৪৭ নম্বর কোমরকাশা, ৪৯ নম্বর করইশ, ৫০ নম্বর হোসেনপুর, ৫২ নম্বর দোঘর, ৫৫ নম্বর দেবীপুর, ৫৯ নম্বর কোয়া-চাঁদপুর, ৬৬ নম্বর চাঁদপুর, ৭৪ নম্বর নোয়াগাঁও, ৭৯ নম্বর হারিচাইল, ৮৫ নম্বর নূরপুর, ৮৯ নম্বর নাওপুরা, ৯০ নম্বর খাজুরিয়া লক্ষ্মীপুর, ৯৭ নম্বর উত্তর আশ্রাফপুর, ৯৮ নম্বর আশ্রাফপুর এন ই-২, ৯৯ নম্বর চাঙ্গিনী, ১০৪ নম্বর বুধুন্ডা, ১০৯ নম্বর চাংপুর, ১১১ নম্বর নিন্দপুর, ১২২ নম্বর পশ্চিম আলিয়ারা, ১২৯ নম্বর জলা তেতৈয়া, ১৩১ নম্বর কোমরকাশা, ১৩৩ নম্বর কড়ইয়া, ১৪৩ নম্বর মধ্য সাদিপুরা, ১৪৪ নম্বর নলুয়া দৌলতপুর, ১৪৫ নম্বর দরিয়াহায়াতপুর, ১৫২ নম্বর খিলা, ১৫৬ নম্বর দক্ষিণ আশ্রাফপুর ও ১৫৯ নম্বর রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, এসব ভবনের ছাদ, দেওয়াল ও বারেন্দার পিলারে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিয়ত খসে পড়ছে ছাদ-দেওয়ালের পলেস্তারা। আহত হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। তাছাড়া পলেস্তারা খসে পড়া অংশে ভেসে ওঠা রডে মরিচা ধরছে। একটু বৃষ্টি হলেই এসব ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে। নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের বই পুস্তক। ফ্লোর ভিজে সৃষ্টি হয় স্যাঁতসেঁতে অবস্থা। দরজা-জানালাগুলো ভাঙচুর অবস্থা। যে কোনো সময়ে ছাদ ও দেওয়াল ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আর দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে এসব জরাজীর্ণ ভবনে চলছে নিয়মিত ক্লাস। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়ে সারাক্ষণই সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে।

দরিয়া হায়াতপুর, নোয়াগাঁও ও উত্তর উজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার, আব্দুল মোতালেব ও মমতাজ বেগম জানান, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সব সময়ে দুশ্চিন্তায় থাকি।

কচুয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার জানান, উপজেলার ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮টির অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। এসব ভবনে ক্লাস চালিয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জরাজীর্ণ ৩৮ বিদ্যালয়ের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।