নীলফামারীর সীমান্তবর্তী উপজেলা ডিমলা। একসময় এ উপজেলার গ্রামেগঞ্জে ফুটবল ছিল অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। স্কুল মাঠ, গ্রামের খোলা জায়গা কিংবা পাড়ার ময়দান যেখানেই একটু জায়গা পাওয়া যেত, বিকেলের আড্ডা জমে উঠত ফুটবল নিয়ে। খেলার উল্লাসে মাঠ-ঘাট মুখর থাকত শিশু-কিশোরদের হাসি ও চিৎকারে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই মাঠগুলো একে একে হারিয়ে যাচ্ছে। জমি দখল, বাজার বসানো, স্থাপনা নির্মাণ ও অবহেলার কারণে মাঠগুলো এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
অনেক মাঠ দখল হয়ে গেছে, কোথাও আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। কেউ কেউ মাঠের জায়গায় পাকা স্থাপনা তৈরি করেছে। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে খেলার উপযুক্ত মাঠই নেই। সরকারি হিসাবে উপজেলায় মাত্র একটি বড় মাঠ রয়েছে, তবে জনসংখ্যার তুলনায় সেটি অত্যন্ত অপ্রতুল।
স্থানীয়রা বলছেন, যেখানে একসময় বিকেল হলে শত শত শিশু ফুটবল খেলত, এখন সেই মাঠগুলোতে নীরবতা। ফুটবলসহ খেলাধুলার পরিবেশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুরা ডিভাইস আসক্ত হয়ে পড়ছে। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট গেমস, অনলাইন জুয়া এবং মাদকের মতো ক্ষতিকর বিষয়ের দিকে ঝুঁকছে।
খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি সামাজিক শক্তি। বিশেষ করে ফুটবল তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত খেলাধুলা দেহকে সুস্থ রাখে, মনের চাপ কমায়, শৃঙ্খলা শেখায় এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করে। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক রাশেদ খান বলেন, ফুটবল তরুণদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে। এতে তাদের প্রতিভা বিকশিত হয়। মাঠ কমে যাওয়ায় তারা এখন সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ফলে ভুল পথে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী সামিউল ইসলাম বলেন, ডিমলার মাঠগুলো যদি ঠিক থাকত, অনেক তরুণ জাতীয় পর্যায়ে খেলতে পারত। কিন্তু সুযোগ না থাকায় প্রতিভা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে শুধু খেলোয়াড়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, সমাজও হারাচ্ছে ইতিবাচক শক্তি।
উপজেলার ক্রীড়া সংগঠকরা বলছেন, মাঠ সংকট ও খেলাধুলার সুযোগের অভাবে ডিমলার তরুণদের একটি বড় অংশ বিপথে যাচ্ছে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও টিকটকের মতো ক্ষতিকর আসক্তিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'ডিমলার মাটিতে অসংখ্য প্রতিভা আছে। শুধু একটু সুযোগ দিলেই তারা দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। ফুটবলকে বাঁচাতে হলে মাঠ ফিরিয়ে দিতে হবে।'
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, 'তরুণদের সুস্থ বিনোদনের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। আমরা কয়েকটি মাঠ সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছি। পাশাপাশি বিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম সক্রিয় করার উদ্যোগও রয়েছে। মাঠরক্ষা ও নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের খেলাধুলায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।'
তিনি আরো বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখা যায়। এজন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।