রংপুরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে ১১

রংপুরে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। নতুন করে মিঠাপুকুর ও কাউনিয়ায় তিন ব্যক্তির শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলার তিন উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এই রোগে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সময়মতো চিকিৎসা নিলে আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে উঠবেন।

জেলার কাউনিয়া উপজেলার ঠাকুরদাস গ্রামে প্রথম একজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। পরে একই উপজেলার আরও একজন এবং মিঠাপুকুর উপজেলার আমাইপুরে একজনের দেহে এই রোগের জীবাণু পাওয়া যায়।

অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার পর জেলার পীরগাছা উপজেলায় ২ জনের মৃত্যু এবং অন্তত দুই শতাধিক মানুষের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য সামনে আসে। এতে জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গরু-ছাগলের মাংস খেতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন। শরীরে স্বাভাবিক চর্মরোগ দেখা দিলেও মানুষ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পীরগাছার পর এখন মিঠাপুকুর ও কাউনিয়ায়ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, 'অ্যানথ্রাক্স কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তবে আক্রান্ত পশুর রক্ত, মাংস বা নিঃসরণে সংস্পর্শে এলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। গবাদিপশু জবাইয়ের আগে অবশ্যই পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।'

জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে পীরগাছায় প্রায় ১ হাজার গবাদিপশুর মৃত্যু হয় অ্যানথ্রাক্সে। একই সময়ে মারা যান দুইজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে চিকিৎসকদের দাবি, তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু থাকলেও মৃত্যুর কারণ এ রোগ নয়।

পীরগাছার পারুল ইউনিয়নে গত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের একটি দল ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে। তাদের মধ্যে ৮ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের বেশিরভাগই অসুস্থ গরুর মাংস কাটাকাটির সময় সংক্রমিত হয়েছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের আমাইপুর গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার একটি গরু অসুস্থ হলে সেটি জবাই করা হয়। পরে ওই এলাকার চারজন—সোহরাব হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, মনির হোসেন ও মজিবর রহমানের শরীরে চর্মরোগ দেখা দেয়। তাদের মধ্যে একজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু শনাক্ত হয়।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এম. এ. হালিম লাবলু বলেন, 'অ্যাকটিভ কেসগুলো অধিকাংশই পশুর রক্ত, হাড়, নাড়িভুঁড়ি বা মাংসের সংস্পর্শে এসেই আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা এলাকায় ব্যাপক সচেতনতা চালাচ্ছি।'

রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু ছাইদ জানান, এখন পর্যন্ত জেলার চার উপজেলায় ১ লাখ ৬৫ হাজার গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি উপজেলায় এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, 'এটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো গবাদিপশুকে টিকা দিলে সংক্রমণ ঝুঁকি থাকে না। ইতোমধ্যে জেলার মসজিদ, মন্দির, হাটবাজারসহ জনবহুল স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছে।'

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো অসুস্থ পশু যেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জবাই না হয়, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু প্রাণীর শরীরে সক্রিয় থাকলেও তা সহজে শনাক্ত করা যায় না। তাই গবাদিপশু জবাইয়ের আগে সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।