ভক্তির ভাব আনে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। সেই ধ্বনি এখন রণহুঙ্কার হয়ে উঠেছে। গণহত্যাও হচ্ছে। ধর্মের নামে এই হিংসা অবিশ্বাস্য। এটা জানিয়ে এবং বন্ধ করার দাবি জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছিলেন ভারতের ৪৯ জন বিশিষ্ট নাগরিক। আর এটা নিয়ে চরমে উঠেছে বিতর্ক। পালটা খোলা চিঠি দিয়েছেন ভারতের ৬১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তারা বলেছেন, হিংসার ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে।
তবে বিতর্ক শুধুই চিঠিতে থেমে নেই। ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতে দলিত, মুসলিমদের ওপর সহিংস ঘটনা ঘটছে বলে ‘সিটিজেনস্পিকসইন্ডিয়া’ নামে একটি মঞ্চের মাধ্যমে চিঠিটি দিয়েছিলেন পরিচালক আদুর গোপালকৃষ্ণন ও শ্যাম বেনেগাল, অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ, অভিনেত্রী অপর্ণা সেন, অভিনেতা কৌশিক সেন ও অনুরাগ ক্যাশ্যপ, পরিচালক মণিরত্নম, অভিনেত্রী কঙ্কনা সেন শর্মাসহ আরো অনেকে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেক্রডব্যুরোর তথ্য দিয়ে বলা হয়, ২০১৬ সালে ভারতে দলিত বিরোধী ৮৪০টি ঘটনা ঘটেছে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ ২৫৪টি ধর্মীয় হিংসার ঘটনায় ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে । জখম হয়েছেন ৫৯১ জন। ৬২ শতাংশ ক্ষেত্রে মুসলিমরা, ১৪ শতাংশ ক্ষেত্রে খ্রীষ্টানরা হিংসার শিকার। পাশাপাশি বলা হয়, সংখ্যাগুরু সমাজের অনেকের কাছে রামের নাম অতি পবিত্র। রামের নামে কালি ছিটানো প্রতিরোধের দায়টা কিন্তু আপনারই (প্রধানমন্ত্রীর)।
এই চিঠিকে সমর্থন দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। চিঠি দেওয়ার পরের দিনই কলকাতায় হুমকি ফোন পেয়েছেন কৌশিক সেন। মুম্বাইয়ে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে আরেক অভিনেতা অনুরাগ ক্যাশ্যপকেও। এর মধ্যে বিশিষ্ট গায়িকা আশা ভোঁসলে টুইট করে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘দম মারো দম, হরেকৃষ্ণ হরেরাম’ গানটি গাইতে পারি? এ নিয়ে সরব হয়েছে নেট দুনিয়াও। পরে আশা বলেন, ‘হালফিলে যা ঘটছে তার ভিত্তিতে এটা করা।’ বিশিষ্টদের এই চিঠির জবাবে ভারতের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নাকভি বলেছেন, ‘অপরাধকে সাম্প্রদায়িকতার রঙ দেওয়া ঠিক নয়।’ এর আগে ‘জয় শ্রীরাম’ এখন প্রহারের মন্ত্র বলে হিন্দুত্ববাদীদের বিরাগের শিকার হয়েছিলেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তাকে কটাক্ষ করা হয়।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়দের চিঠির পালটা পত্রবোমা দিয়েছেন সমাজের বিশিষ্টদের আরেকটি অংশ। কঙ্গনা রাওয়াত, মধুর ভান্ডারকর, বিবেক অগ্নিহোত্রীসহ ৬১ বিশিষ্ট জন বলেছেন, যারা কয়েকটি অসহিষ্ণুতার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা কেন মাওবাদি হামলার সময় নীরব ছিলেন। কাশ্মীরে যখন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছিল, তারা তখন কোথায় ছিলেন। পাশাপাশি চিঠিতে বলা হয়েছে বাক্স্বাধীনতার নামে দেশের ঐক্য নষ্টের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নতুন এই চিঠিতে যে ১২টি ঘটনার কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, তার ছয়টি ঘটনাই পশ্চিমবঙ্গের।