হানি ট্র্যাপের শিকার সরকারি কর্মকর্তা, নারীসহ চার অপহরণকারী আটক

রাজধানীর সাভারে নারীসহ অপহরণকারী চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি লেগুনা গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মো.মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করা হয়। শনিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে, শুক্রবার সাভারের জামশিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তাদের।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- রংপুর জেলার পীরগাছা থানার তালুকো গ্রামের মো. জয়নালের ছেলে শরিফুল (২৫), একই থানার ২ নম্বর সতাং গ্রামের মো. আ. হাকিমের ছেলে মো. জয়নাল (২৫), ময়মনসিংহ জেলার ইশ্বরগঞ্জ থানার দত্তপাড়া গ্রামের আ. রাজ্জাকের মেয়ে সাকলা আনমনা (১৯) এবং শেরপুর জেলার নকলা থানার নাইরনখোলা বাজার এলাকার মো. বজলুর মিয়ার ছেলে মো. কাওসার হোসেন কনক (২০)।

পুলিশ জানায়, বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসানকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হানিট্র্যাপে ফেলে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা। পরে কৌশলে তাকে সাভার মডেল থানাধীন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মিনি চিড়িয়াখানার সামনে ডেকে এনে অপহরণ করা হয়। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীকে একটি গোপন স্থানে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এ ঘটনায় অপহরণ ও মুক্তিপণের বিষয়টি ভিকটিমের পরিবার ৯৯৯-এর মাধ্যমে সাভার মডেল থানা পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানকারী দলটি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় টানা ২০ ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করে শুক্রবার সাভার মডেল থানাধীন জামশিং এলাকা থেকে মেহেদী হাসানকে উদ্ধার করে। এ সময় ওই হানি ট্র্যাপ চক্রের এক নারী সদস্যসহ চার অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবির বলেন, গ্রেপ্তারকৃত অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা সাভার পৌর এলাকার গেন্ডা ও রেডিও কলোনি মহল্লায় ভাড়া বাসায় থেকে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতো। তাদের কাছ থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি লেগুনা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।