নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছোট ছোট ঝুপড়ি ও টং দোকানে এমনকি আবাসিক ভবনের নিচতলাতেও খোলা বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন। ফায়ার সার্ভিস বা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই এসব দোকানে চলছে তেল ব্যবসা। স্থানীয়ভাবে এগুলোর পরিচিতি ‘মিনি তেল পাম্প’ নামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ব্যবসায় ব্যবহৃত বেশির ভাগ তেলই চোরাই ও ভেজাল। মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেওয়ানবাগ থেকে লাঙ্গলবন্দ ব্রিজ পর্যন্ত এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশত অবৈধ তেলের দোকান। এসব দোকান ঘিরে রয়েছে তীব্র অগ্নিঝুঁকি।
পেট্রোলিয়াম সংক্রান্ত আইন অনুসারে জ্বালানি তেল, পেট্রোল, ডিজেলের ব্যবসার জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পূর্ব অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। নিরাপত্তার কারণে ২০১৫ সাল থেকে খোলাবাজারে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। তবে বন্দরের এসব ছোট ছোট ঝুপড়ি দোকানগুলোতে নির্দ্বিধায় এ ব্যবসা চলছে। এ দোকানগুলিতে বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ির চালকরা তেল চুরি করে বিক্রি করে। বন্দর ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন সিমেন্ট কোম্পানির গাড়িগুলি এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। গাড়িগুলো মাল নামিয়ে ফেরার পথে এ সকল অবৈধ দোকানগুলি সামনে এসে পাইপ দিয়ে গাড়ির ট্যাংক থেকে তেল নামিয়ে বিক্রি করে। আর এ চোরাই তেল দোকানিরা কম দামে কিনে পরে বেশি দামে বিক্রি করে। এ সমস্ত খোলা তেলের এসব দোকান অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। সামান্য ভুলে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে দোকান ও দোকানের আশপাশের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফরাজিকান্দা, কল্যান্দী, নবীগঞ্জ, ফুলহর, মদনপুর, দেওয়ানবাগসহ বিভিন্ন বাজারে তেলের ব্যারেল স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও ডিসপেন্সার মেশিন বসিয়ে বিক্রি চলছে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন।
বন্দর ফায়ার স্টেশনের অফিসার সঞ্জয় খান বলেন, আমরা কোনো দোকানকে খোলা বাজারে তেল বিক্রির ছাড়পত্র দিইনি। এসব দোকানে ফায়ার সেফটির ব্যবস্থা নেই, তাই এগুলো সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি জানান, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসে অনুমতির জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো পাইনি।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যারা অনুমোদন ছাড়াই তেল বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।