যমুনা সার কারখানার দূষিত পানিতে ভাসছে সরিষাবাড়ী, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যথাযথ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় নবনির্মিত তারাকান্দি-ভুয়াপুর সড়কে উঠেছে দূষিত পানি। উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দি তিতাশ মোড়ে এমন চিত্র দেখা যায়। এমনকি সড়কের আশপাশে থাকা বাসা, বাড়িতেও ঢুকছে এসব দূষিত ও বিষাক্ত পানি। ফলে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী-ভুয়াপুর প্রধান সড়কের তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা সংলগ্ন তিতাস মোড় এলাকায় নতুন বাইপাস রাস্তা নির্মাণ করে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর। এরপর থেকেই যমুনা সার কারখানা কমান্ডিং এরিয়ার ভেতরের পানি, বাহিরের ড্রেনের পানি ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দুই রাস্তার মাঝে হাঁটু পানি জমে যায়। ফলে প্রতিদিন এসব দূষিত ও বিষাক্ত পানি আশপাশের বাড়িতে ঢুকছে। এতে করে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয়রা। অনেকে পানি থেকে নিজের ঘরবাড়ি বাঁচাতে নতুন রাস্তার ওপর দিয়েছেন বাধ। ফলে পানি কোথাও নামতে পারছে না। এ কারণেই বাসা-বাড়িতে প্রতিদিন পানি বাড়ছে। 

তিতাস মোড় এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে কয়েকমাস ধরে পানি জমে আছে। অনেকের বাড়ির ভেতরেও এসব পানি হাঁটু পর্যন্ত জমে আছে। আমারা ব্যবসা করতে পারতেছি না। দোকান ও বাড়িতে পানি ওঠে। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় মাটি দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করছি। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই।  

এলাকার লিটন মিয়া ও শিপন মেলেটারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েকমাস ধরে যমুনা সার কারখানার ও বৃষ্টির পানি কোথাও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের বাড়ির ভেতরে হাঁটু পানি জমে আছে। বিষাক্ত ও দূষিত পানির ভেতরে আমাদের প্রতিদিন হাটতে হয়। এতে করে নানা রকম চুলকানি ও ঘা হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। এসব পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে যমুনা সার কারখানার জিএম (প্রশাসন) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি। আমাদের যমুনায় জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য মটর বসিয়ে পানি আমাদের ড্রেনের সঙ্গে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবো। তাছাড়া এলাকার লোকজন পানি বিলে বা আশেপাশের খোলা জায়গায় নামতে দিচ্ছে না। রাস্তার ওপর বাধ দিয়ে পানি আটকে রেখেছে। ফলে পানি  কোথাও নামতে পারছে না। তবে পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।’