ঘন কুয়াশার চাদরে গাংনী, সকালেও গাড়ি চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় চাদর বিছিয়েছে ঘন কুয়াশা। সকালে রাস্তা ঢেকে গেছে কুয়াশায়। হঠাৎ আসা এই কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের বামন্দী বাসস্ট্যান্ডসহ উপজেলার বিভিন্ন রাস্তায় এমন দৃশ্য দেখা যায়। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও যানবাহনকে আলো জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে।

ভোর থেকে চারদিক ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাওয়ায় পথঘাট প্রায় দেখা যাচ্ছে না। তারপরও জীবন ও জীবিকার তাগিদে কুয়াশা ভেদ করে নিজ নিজ কর্মস্থলে ছুটছে সাধারণ মানুষ ও দিনমজুরেরা।

সড়কে হঠাৎ ঘন কুয়াশা নেমে আসায় অনেকেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তা প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেলেও দ্রুতগতিতে যানবাহন ছুটে চলছে।

পথচারী মো. জিনারুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামের মানুষ ফজরের নামাজ পড়েই অনেকে রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করে। আজকে কুয়াশা খুব বেশি পড়েছে। যানবাহনগুলো লাইট জ্বালিয়ে চলছে। সবারই সাবধানে থাকতে হবে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।’

অটোচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পেটের তাগিদে ভোরবেলায়ই বের হতে হয়েছে। কুয়াশার কারণে অনেক আস্তে আস্তে গাড়ি চালাই, তারপরও ভয় লাগে। কয়েক দিন আগেও কুয়াশা ছিল, তবে আজ ঘনত্ব অনেক বেশি।’

নছিমনের চালক মো. সাব্বান আলী বলেন, ‘আমরা খুব ভোরে মাছ আনতে যাই। আজ কুয়াশা বেশি থাকায় দুর্ঘটনার ভয়ও বেশি। তাই খুব আস্তে আস্তে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। যদিও অধিকাংশ নছিমনচালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালান, যা ঝুঁকিপূর্ণ।’

ট্রাকচালক মো. আবু বক্কর কুয়াশার মধ্যে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘চরম ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় চলি। হেডলাইট জ্বালালেও পথ পরিষ্কার দেখা যায় না। দুর্ঘটনা দেখলে ভয়ে জান কেঁপে ওঠে। বলা যায়, গাড়ির লাইট দিয়েই আমাদের পথ চলতে হয়। এখন থেকে মাঝেমধ্যে কুয়াশা দেখা যাবে, এটিই শীতের আগমনী বার্তা।’

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, সকালের এই কুয়াশা শীতের আগমনী বার্তার জানান দিলেও মাঠের ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না। আপাতত বৃষ্টিরও কোনো সম্ভাবনা নেই।

ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সাধারণ যাত্রীরা।