ঝালকাঠি বিএনপির এক পক্ষের ওপর আরেক পক্ষের হামলার অভিযোগ, আহত ১০

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ শেষে ফেরার পথে দলের এক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপি ও শ্রমিক দলের অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদকের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাত সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী মিরের হাটসংলগ্ন সোনালী মোড়ে এই সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী গোলাম আজম সৈকত লিফলেট বিতরণ শেষে গাড়িবহর নিয়ে ফিরছিলেন। একই পথে যাচ্ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালের গাড়িবহর। এ সময় জামালের অনুসারীরা সৈকতের বহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

হামলাকারীরা বহরের একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে এবং চালককে মারধর করে। এতে বিএনপি নেতা ইউনুস মেম্বার, শ্রমিক দল নেতা সোহেল, ইলিয়াস মোল্লা ও রিপন বিশ্বাসসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গোলাম আজম সৈকত বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কর্মসূচি শেষে ফিরছিলাম। পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। বিএনপি আন্দোলনের পথে আছে—এটা তাদের সহ্য হচ্ছে না। আমি এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।

অভিযুক্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম জামাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি বা আমার কোনো কর্মী গোলাম আজম সৈকতের গাড়িবহরে হামলায় জড়িত নই। বরং শুনেছি আমাদের একটি গাড়িতে থাকা কর্মীদের উদ্দেশ্যে সৈকতের সমর্থকেরা বাজে শব্দ (ব্যাড সাউন্ড) ব্যবহার করেছিল। আমার জানামতে ওখানে কোনো সংঘর্ষ হয়নি। তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নাটক সাজিয়ে আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

রাজাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আব্দুল মালেক বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।