চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ মামুন উর রশিদকে আজীবনের জন্য সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (১৩ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়।
ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে সংগঠনের ঘোষিত প্যানেলের বাইরের এক প্রার্থীকে সমর্থনের অভিযোগ ওঠার পর মামুনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেবল সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির কেন্দ্রীয় কমিটির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সব স্তরের নেতা-কর্মীদের মামুন উর রশিদের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করেছেন। এ সময় তারা মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছেন। সেই কারণে কেন্দ্রীয় সংগঠন শেষ পর্যন্ত বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি প্যানেল ঘোষণা করেছি; কিন্তু প্যানেলের বাইরে গিয়ে তার অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে আমরা শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।’
অন্যদিকে, বহিষ্কার হওয়া মোহাম্মদ মামুন উর রশিদৎ বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পদে থাকলেও তার কোনো মতামত নেওয়া হতো না। তাই অনেক আগেই কমিটি থেকে সরে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। তিনি দাবি করেছেন, প্যানেলের বাইরের কাউকে সমর্থন করার অভিযোগ সত্য নয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্যানেল ঘোষণার সময় আমার কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। ছাত্রদলের অনেকেই প্যানেলের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।’
২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অনুমোদিত আংশিক কমিটির অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ওই কমিটিতে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মহসিনকে সভাপতি ও আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এছাড়া মামুন উর রশিদ জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, মো. ইয়াসিন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাজ্জাদ হোসেন সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।