কালীগঞ্জে এইচএসসির ফলাফলে পাসের চেয়ে ফেল বেশি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল যেন শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। উপজেলার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে— মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫৫৪ জন, আর অকৃতকার্য হয়েছে ৬৭৪ জন।

অর্থাৎ উপজেলার সাত কলেজে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পাসের চেয়ে ফেল শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমানের প্রকাশিত ফলাফলে এই তথ্য দেখা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, ফলাফলের এই চিত্র শিক্ষার্থীদের অনাগ্রহ, পাঠদানের মানহীনতা এবং শিক্ষা প্রশাসনের দুর্বল তদারকির স্পষ্ট প্রতিফলন। তবে হতাশার মাঝেও সামান্য আশার আলো জ্বেলেছে কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থী। উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মোট ১৯ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ–৫ অর্জন করেছে।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৫ ও ফেল ১৭০ জন। একইভাবে মানবিকে পাস ৯০ ও ফেল ২১৯, বিজ্ঞানে পাস ৫৬ ও ফেল ৪৭ জন। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই শিক্ষার্থী। মোট পাস ২২১ ও অকৃতকার্য ৪৩৬ জন।

জামালপুর কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস করেছে ৭  ও ফেল করেছে ১৯ পরীক্ষার্থী। একইভাবে মানবিকে পাস ২৩ ও ফেল ৫৮, বিজ্ঞানে পাস ৪ ও ফেল ৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক শিক্ষার্থী। মোট পাস ৩৪ ও অকৃতকার্য ৮২ জন।

আজমতপুর কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস করেছে ৮ ও ফেল ৬ জন, মানবিকে পাস ১৬ ও ফেল ৩৩। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। মোট পাস ২৪ ও অকৃতকার্য ৩৯ জন।

কালীগঞ্জ মহিলা কলেজে বিজনেস স্টাডিজে পাস ১২ ও ফেল ১, মানবিকে পাস ৩০ ও ফেল ২৬। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। মোট পাস ৪২ ও অকৃতকার্য ২৭ জন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন ঢালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস ৫ জন ও ফেল ৬ জন, মানবিকে পাস এক ও ফেল ১৪ জন। মোট পাস ৬ ও অকৃতকার্য ২০ জন।

সেন্ট মেরিস গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস ৭৮ ও ফেল ১৩ জন, মানবিকে পাস ৬৫ ও ফেল ২৩, বিজ্ঞানে পাস ৪৭ ও ফেল ৯। এখানে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১৪ জন শিক্ষার্থী। মোট পাস ১৯০ ও অকৃতকার্য ৪৫ জন।

সেন্ট নিকোলাস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিজনেস স্টাডিজে পাস ৩৩ ও ফেল করেছে ১৯ পরীক্ষার্থী, মানবিকে পাস ৪ ও ফেল ৬ জন। মোট পাস ৩৭ ও অকৃতকার্য ২৫ জন।