কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ

রংপুরে ১২ শিক্ষকের ১ শিক্ষার্থী, তবুও ফেল

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই শিক্ষার্থীও ফেল করেছেন। অথচ কলেজ সেকশনে রয়েছেন ১২ জন শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফলে এই তথ্য জানা গেছে। ফল প্রকাশের পর এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

কলেজটির অধ্যক্ষ এ বি এম মিজানুর রহমান বলেন, '২০১১ সালে কলেজ শাখা চালু হয়। তবে আজও কলেজ সেকশন এমপিওভুক্ত হয়নি। শিক্ষকরা কোনো বেতন না পাওয়ায় তারা কলেজে আসেন না, ক্লাস নেন না। ফলে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে প্রস্তুত করাও সম্ভব হয় না।'

তিনি আরও বলেন, 'এবার নিজের পকেট থেকে এক লাখ টাকা খরচ করে ১০৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র একজন। সেও ফেল করেছে।'

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। অনেকেই বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির এমন করুণ অবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকেরা দায়ী।

জানা গেছে, কলেজটিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য—তিনটি বিভাগ থাকলেও শুধুমাত্র মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
বাকি দুই বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি ছিলেন না।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল। তিনি বলেন, 'এবার সারা দেশেই পাসের হার কম। সরকার এখন গুণগত শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছে। তবে কান্দিরহাট কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা উৎসাহ হারান। আমরা প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৬ সালে। স্কুল শাখাটি এমপিওভুক্ত এবং তাদের ফলাফল বরাবর ভালো। কিন্তু কলেজ সেকশন ২০১১ সালে চালু হলেও এখনো মঞ্জুরি পায়নি।