চট্টগ্রামে শ্রমিকদের দুপক্ষের সংঘর্ষের পর প্যাসিফিক গ্রুপের ৮ কারখানা বন্ধের ঘোষণা

শ্রমিক বিক্ষোভ চলাকালে দুপক্ষের সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম ইপিজেডের প্যাসিফিক গ্রুপের ৮টি কারখানা অনির্দিষ্টাকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে মালিকপক্ষ থেকে কারখানা বন্ধের ঘোষণা আসে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে প্যাসিফিক গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার সুহৃদ চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার শ্রমিক বিক্ষোভের পর কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। রাতে মালিক পক্ষ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। যা শনিবার থেকে কার্যকর হবে।

কাজ বন্ধ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- প্যাসিফিক জিন্স-১, প্যাসিফিক জিন্স-২, প্যাসিফিক অ্যাটায়ারস, প্যাসিফিক অ্যাক্সেসরিজ, প্যাসিফিক ওয়ারকওয়্যারস, ইউনিভারসেল জিন্স, এইচটি ফ্যাশন, জিন্স ২০০০।

কারখানা বন্ধের নোটিশে বলা হয়েছে, কিছু শ্রমিক ১৪ অক্টোবর কাজ বন্ধ করে বেআইনিভাবে কর্রমবিরতি পালন করে। কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিলেও কারাখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে এবং ১৫ ও ১৬ অক্টোবরও অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা নিজেদের মধ্যে মারামারি, কারখানা ভাঙচুর, এবং কর্মকর্তা ও  কর্মচারীদের শারীরিকভাবে আঘাত করে।

নোটিশে আরও বলা হয়, কারখানার শ্রমিকদের এ ধরনের আচরণ বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইনের-২০১৯ অনুযায়ী বেআইনি ধর্মঘটের পর্যায়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে এবং শ্রমিকদের বাধার কারণে কারাখানা কাযক্রম চালু রাখা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ইপিজেডের ভেতরের শিল্প পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সে ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ইপিজেড থানায় একটি মামলা করে। মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলাটি বর্তমানে শিল্প পুলিশ তদন্ত করছে। মামলার তথ্য-সংগ্রহ নিয়ে শ্রমিকদের এক পক্ষের অসন্তোষ। শ্রমিকদের দাবি, তাদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

বিক্ষোভরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের মামলা থেকে অব্যাহতির দাবিতে এক পক্ষ কর্মবিরতি পালন করছিল। তবে আরেক পক্ষের কাজে যোগদান করার প্রস্তুত ছিল। কর্মবিরতিতে যাওয়া শ্রমিকেরা তাদের বাধা দেন। এ অবস্থায় কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়ে দেয়, কাজের পরিবেশ না থাকলে কারখানা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হবে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।