জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিপন্ন প্রজাতির পাহাড়ি কচ্ছপ উদ্ধার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় মহাবিপন্ন প্রজাতির হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন্য প্রাণী–সংক্রান্ত অপরাধ দমন ইউনিট। সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ইউনিটের কর্মকর্তারা কচ্ছপটি সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশমাইল এলাকায় কয়েকজন শিশু কচ্ছপটি নিয়ে খেলছিল। বিষয়টি পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বন্য প্রাণী আলোকচিত্রী অরিত্র সাত্তার দেখতে পেয়ে কচ্ছপটি উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসেন এবং বিষয়টি বন বিভাগকে জানান। পরে আজ বন্য প্রাণী–সংক্রান্ত অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা কচ্ছপটি তাদের হেফাজতে নেন।

শিক্ষার্থী অরিত্র সাত্তার বলেন, ‘বিশমাইল এলাকায় এ বিপন্ন প্রজাতির পাহাড়ি কচ্ছপটি আমি দেখতে পাই। কয়েকজন বাচ্চা এটি নিয়ে খেলা করছিল। তারপর তাদের বুঝিয়ে আমি এটি বাসায় নিয়ে আসি। এটা যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে না, তাই বন বিভাগকে খবর দিয়েছিলাম।’

বন্য প্রাণী–সংক্রান্ত অপরাধ দমন ইউনিটের প্রাণী সংরক্ষক জসিম শেখ জানান, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপটি মহাবিপন্ন প্রজাতির হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ। এটি মূলত স্থলচর প্রাণী, ডাঙায় বসবাস করে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এ প্রজাতির কচ্ছপের বাসযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ‘এ জন্য প্রাণীটি নিয়ে যাচ্ছি। পরে আমাদের সিনিয়র স্যারেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে এদের উপযুক্ত পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খান জানান, হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপটি মূলত বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় বাস করে। কালেভদ্রে সিলেট অঞ্চলেও পাওয়া যায়। এরা পানিতে বাস করে না।

তিনি বলেন, মূলত ডাঙায় এদের আবাসস্থল এবং শাকসবজি–জাতীয় তৃণ খেয়ে বেঁচে থাকে। অনেকে এ জাতের কচ্ছপ পোষার জন্য নিয়ে আসে। মনে করে, পুকুরে তারা ছেড়ে দেবে। কিন্তু এরা পানিতে থাকে না, ডাঙায় থাকে। তখন তারা ছেড়ে দেয়। এটাও হয়তো সে রকম কিছু হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে এসব কচ্ছপ বাস করতে পারবে না, বিষয়টি এমন নয়। তবে যেহেতু এটা পাহাড়ি বিপন্ন প্রাণী, কাজেই এদের পাহাড়ের উপযুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া যৌক্তিক হবে।