তারেক রহমানের বার্তা নিয়ে কয়রায় জনগণের মাঝে বাসস চেয়ারম্যান

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা জনগণের মাঝে পৌঁছে দিতে খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার আলদীন। তিনি খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী।

গত কয়েক মাস ধরে আনোয়ার আলদীন দলীয় হাজারো নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দুই উপজেলার ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কখনও হাটে-বাজারে, কখনও চায়ের আড্ডায় কিংবা স্কুল-মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তিনি। জনগণের কাছে তুলে ধরছেন বিএনপি’র ঘোষিত ‘৩১ দফা রূপরেখা’—যার মাধ্যমে তিনি মনে করেন, দেশে প্রতিষ্ঠিত হবে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা।

রোববার ও সোমবার বিকেলে কয়রা বাজারে তিনি লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় শত শত মানুষ তাঁকে ঘিরে শুভেচ্ছা জানান।

WhatsApp Image 2025-10-21 at 00.09.24_86949c3d

আনোয়ার আলদীন বলেন, “তরুণ প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “কয়রা ও পাইকগাছার মানুষের চোখে আমি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা দেখেছি। তারা চায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত সমাজ। আমি সেই পরিবর্তনের পথে মানুষের পাশে থাকতে চাই।”

সোমবার সন্ধ্যায় কয়রা সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আনোয়ার আলদীন বলেন, “তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের দ্বারে যেতে হবে, তাদের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে। প্রতিটি ঘরে বিএনপি’র ৩১ দফার বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দল শুধুমাত্র সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকেই মনোনয়ন দেবে। তাই সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

আনোয়ার আলদীন অভিযোগ করেন, “গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ কয়রা ও পাইকগাছায় সন্ত্রাস ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছে। সাধারণ মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এখন তারা পরিবর্তন চায়।”

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে কয়রা ও পাইকগাছায় টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা এবং শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার করা হবে।”

WhatsApp Image 2025-10-21 at 00.10.26_78113d81

পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আনোয়ার আলদীন বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে গণমাধ্যমে সেলফ সেন্সরশিপ চালু ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সাংবাদিকরা এখন স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে। মনোনয়ন পেলে কয়রার মাটি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব।”

এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মোমরেজুল ইসলাম, জেলা বিএনপি সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, আবু সাঈদ বিশ্বাস, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. আবদুল মজিদসহ যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা।

এর আগে তিনি কয়রায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও স্থানীয় প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেন।