জাল সনদে শিক্ষকতার অভিযোগ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বীরজোয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল সনদে শিক্ষকতা করেছেন দুই শিক্ষক। এনটিআরসির যাচাইয়ে সহকারী শিক্ষক কামরুজ্জামান ও বাবুল আকতারের সনদ জাল প্রমাণিত হয়েছে। ‘শিক্ষক নিবন্ধন সনদ’ ব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে চাকরি করছেন তারা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামান ২০০৮ সালের ৫ মে জাল সনদে যোগদান করেন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক বাবুল আকতার ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর একইভাবে নিয়োগ পান। এরপর থেকে তারা সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করে আসছেন।

এনটিআরসির সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০০৬ সালের দ্বিতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার রোল ১১২২০০৫৪ নম্বরধারী বাবুল আকতার চৌধুরী ও রোল ৪২৬১৩২৭ নম্বরধারী কামরুজ্জামান মন্ডলের দাখিল করা প্রত্যয়নপত্রের সাথে অফিস সংরক্ষিত ফলাফলের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। উভয় শিক্ষক জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের জাল সনদধারীর আবেদন প্রেরণ করলে তার বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে শিক্ষক কামরুজ্জামান ও বাবুল আক্তার বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের নিকট তথ্য আছে বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

বীরজোয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব আলী বলেন, তাদের কোনো তথ্য আমি দিতে পারব না। উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে জেনে নিন। 

নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সরবরাহকৃত সনদ ও সুপারিশপত্র জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।  অফিসিয়াল চিঠি এখনো হাতে পাইনি। চিঠি পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।