উদ্বোধনের ১৯ বছরেও পুরোপুরি চালু হয়নি শহীদনগর ট্রমা সেন্টার

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক উন্নতসেবা প্রদানের জন্য নির্মাণ করা হয় ২০ শয্যাবিশিষ্ট ট্রমা সেন্টার। তবে এই সেন্টারের কোন সুবিধাই পাচ্ছে না মহাসড়কে দুর্ঘটনা কবলিতরা। দুই স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুই বার উদ্বোধন করার পরেও দীর্ঘ ১৯ বছরেও এর পুরোপুরি কার্যক্রম চালু হয়নি। শুধু আউটডোরে পেটব্যাথা, জ্বর, ঠান্ডা-কাশির রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছে। ট্রমা সেন্টারটি পুরোপুরি চালু কারার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির শহীদনগরে গণপূর্ত বিভাগের অর্থায়নে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়। কাজ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। উদ্বোধনের পর প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে মাস কয়েক পর সেন্টারটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী আ ন ম রুহুল হক দ্বিতীয় বারের মতো ট্রমা সেন্টারটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে আউটডোরে সীমিত আকারে কখনো স্বাস্থ্যসেবা চললেও পরিপূর্ণ কোন কার্যক্রম শুরু হয়নি দীর্ঘ ১৯ বছরেও।

সরজমিনে দেখা গেছে, তিন তলাবিশিষ্ট ট্রমা সেন্টারটির নিচতলায় জরুরি বিভাগ ও চিকিৎসক- নার্সদের কক্ষেই চলছে সেবাকার্যক্রম। বাকি পুরো ভবনটি ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দোতলা এবং তিন তলার কক্ষের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। আবার কোথাও ধরেছে মরিচা।

এদিকে ২০ শয্যাবিশিষ্ট ট্রমা সেন্টারটিতে ১৬টি পদে অর্থোসার্জারি, অ্যানেসথেসিয়া, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ফার্মাসিস্টসহ ২৬ জন স্টাফের যায়গায় রয়েছে মাত্র ১৫ জন। তার মধ্যে এখানকার অনেকেই অফিস করছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দুর্ঘটনা কবলিতরা।

শহীদনগরের বাসিন্দা জসীম উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত চালু করার জোর দাবি জানাচ্ছি। চাঁদগাও গ্রামের বাসিন্দা তসলিম আহাম্মেদ বলেন, ‘ট্রমা সেন্টারটি উদ্বোধনের পর থেকে আর ভালো করে চালু করা হয়নি। যে উদ্দেশ্য করা হয়েছিলো এর কোন ফলই পায়নি ভুক্তভোগীরা। আমরা দাবি জানাচ্ছি সরকার দ্রুত ট্রমা সেন্টারটির পাশাপাশি এটি একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে চালু করা হোক। হাসপাতাল করার মতো পর্যাপ্ত যায়গা রয়েছে।'

সুন্দলপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আশরাফ উদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি পরিপূর্ণ চালু করা দরকার। পরিষদের উদ্যোগে ট্রমা সেন্টার কমপ্লেক্সের আবর্জন পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।'

ট্রমা সেন্টারে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রোকসানা বানু বলেন, 'এখানে পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতি না থাকায় মহাসড়কে আহতদের চিকিৎসা দেয়া যায় না। প্রতিদিন ৬০-৭০ জন সাধারণ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।'

কর্মরত চিকিৎসক নাজমুল হাসান বলেন, ‘ডা. হিসেবে আমি একাই দায়িত্ব পালন করছি। ইনডোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শুধু আউটডোরে সেবা চলছে। জনবল ও না থাকায় আউটডোর সেবা বন্ধ রয়েছে।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষানিরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল না থাকায় ট্রমা সেন্টারটি পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না। তবে আমরা একটি তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সরকার পদক্ষেপ নিলে দুর্ঘটনায় আহতরা ঢাকায় না গিয়ে এখানে উন্নত সেবা পাবে।'

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসা দিতে স্থাপিত এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এতে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতরা বঞ্চিত হচ্ছেন জরুরি চিকিৎসা সেবা থেকে। দ্রুত পরিপূর্ণ কার্যক্রমে ফিরুক,এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।