কুমিল্লার তিতাসের আলোচিত মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ডের ১৯ মাস পর ২৪ লাখ টাকায় আপস করেছেন বাদী ও বিবাদীপক্ষ। গত বুধবার বিকালে উপজেলার কানাইনগরে গ্রাম্য বৈঠকের মাধ্যমে এ সমাধান করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার নিহতের তিন সন্তান ও স্ত্রীর নামে যৌথ এফডিআর হিসাব চালু করে ১০ লাখ টাকা স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে রাখা হয়।
২০২৪ সালের ২১ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জগতপুর ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের পশ্চিম পাড়া চকের বাড়ি এলাকায় ‘দোকানে সিগারেট নেই’ বলায় দুর্বৃত্তরা দোকানি মানিক মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মোখলেছুর রহমান বাদী হয়ে একই গ্রামের নায়েব আলী ভূঁইয়ার তিন ছেলে বাহাউদ্দিন, জালাল মিয়া ও আলাল মিয়া এবং নায়েব আলী ভূঁইয়াকে আসামি করে তিতাস থানা একটি হত্যা মামলা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার বাদ জোহর উপজেলার কানাইনগর গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দিনের বাড়িতে একটি বৈঠক বসে। বৈঠকে নিহতের পরিবারকে ২৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাদী মোখলেছুর রহমানকে ১২ লাখ, নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারকে ২ লাখ এবং নাবালক তিন সন্তানকে ১০ লাখ টাকা ভাগ করে দেওয়া হয়। তবে সংসারের সবচেয়ে ছোট ছেলের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ১০ লাখ টাকা যৌথ এফডিআর করে ব্যাংকে রাখা হয়েছে। এদিকে স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পূর্ণ টাকা না দিয়ে মামলার বাদী অর্থাত্ নিহতের পিতা মোখলেছুর রহমান ১২ লাখ টাকা নেওয়ায় এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জগতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আক্তারুল হক মাস্টার জানান, বাদী-বিবাদীর সম্মতিতে গ্রাম্য পঞ্চায়েতের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংক পিএলসি তিতাস শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল কাশেম জানান, ‘বাদীপক্ষের নামে বৃহস্পতিবার ১০ লাখ টাকার একটি যৌথ এফডিআর হিসাব খোলা হয়েছে।’