চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা পুশ ইন হওয়া ছয় ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন পিছিয়েছে। আগামী ৬ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম (তৃতীয় আদালত) আশরাফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ওই ছয় ভারতীয় নাগরিক এখনই ভারতে ফিরতে পারছেন না। এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট এক রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের চার সপ্তাহের মধ্যে ভারতে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত থাকায় তাঁদের দেশে ফেরার বিষয়টি অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
ছয় ভারতীয় নাগরিক হলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার ধিতোরা গ্রামের দানিশ শেখ (২৮), তার স্ত্রী সোনালি বিবি (২৬), তাদের ৮ বছর বয়সী ছেলে এবং সুইটি বিবি (৩৩) ও তার ১৬ ও ৬ বছর বয়সী ছেলে। তাদের মধ্যে সোনালি বিবি অন্তঃসত্ত্বা। গত ২০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীর বরাত দিয়ে জানা গেছে, দানিশ শেখ ও তার পরিবার দিল্লিতে কাগজ কুড়ানোর কাজ করতেন। একপর্যায়ে দিল্লি পুলিশ তাদের আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেয়। পরে বিএসএফ তাদের কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায় (পুশ ইন)।
এরপর তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসে আটক হন। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
ভারতের বীরভূম জেলার নাগরিক মফিজল শেখ বাংলাদেশে এসে মামলাটির তদারকি করছেন। তিনি বৃহস্পতিবার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, “দিল্লি পুলিশ জঘন্য কাজ করেছে। শুধু বাংলায় কথা বলার কারণে ছয়জনকে আটক করে যাচাই-বাছাই ছাড়াই বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছিলাম। বিচারপতি চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের দেশে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু শুক্রবারে সেই সময় শেষ হচ্ছে, তবু কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”
মফিজল শেখ অনুরোধ জানান, “তারা গরিব, অসহায় মানুষ। বিশেষ করে সোনালি বিবি অন্তঃসত্ত্বা। বাংলাদেশের আদালতের কাছে অনুরোধ, যেন দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এন. এম. ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, “কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন হওয়ার পর তারা ঢাকায় গিয়েছিলেন। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসে ধরা পড়েন। বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
আসামিপক্ষের আইনজীবী একরামুল হক জানান, “আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন। সেদিন শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন হতে পারে বলে আশা করছি।”