রংপুরে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

রংপুরে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের জোনাল অফিসে মেয়াদোত্তীর্ণ বীমার টাকা না পাওয়ায় গ্রাহকরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন।

শনিবার গভীর রাতে কোম্পানির মালামাল ট্রাকে করে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে এমন অভিযোগে উত্তেজিত গ্রাহকরা অফিসের সামনে একটি ট্রাকসহ মালামাল আটক করেন। রবিবার সকাল থেকে তারা শহরের গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন।

জানা যায়, শনিবার রাত তিনটার দিকে অফিস থেকে ট্রাকে মালামাল সরানোর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাহকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এর ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা অফিসের সামনের ট্রাকটি আটকে দেন এবং জোনাল অফিসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসভিপি) আব্দুল কাদের বীরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের মধ্যে খোরশেদ আলম, আব্দুল হাকিম ও হুমায়ূন কবির—অভিযোগ করেন, তারা বছরের পর বছর ধরে বীমার পরিশোধিত টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। অফিস রাতের আঁধারে মালামাল পাচার করছে, যা তাদের মতে প্রতারণার ইঙ্গিত দেয়। 

গ্রাহকরা বলেন, আমাদের আমানতের টাকা ফেরত না পেলে আমরা চরম কষ্টে থাকব। প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এসভিপি আব্দুল কাদের বীর বলেন, আমরা অফিসের পুরনো আসবাবপত্র বিক্রি করছিলাম নতুন অফিসে স্থানান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে গ্রাহকরা উত্তেজিত হয়েছেন। আমাদের পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে, যা বিক্রি করে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাদের কোম্পানির অনেক সম্পদ দখল হয়ে গেছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেব।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রমিজ আলম বলেন, এই অফিসের আওতায় প্রায় ৭০ হাজার বীমা গ্রাহক আছেন, যাদের বকেয়া পাওনা প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে তারা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। আমরা কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথেও যোগাযোগের উদ্যোগ নিচ্ছি যাতে দ্রুত গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করা যায়। অফিস থেকে যে মালামাল নামানো হয়েছিল তা আপাতত এখানেই রাখা হবে। আমরা নিশ্চিত করছি, তাদের জমি বা সম্পদ বিক্রির কোনো প্রক্রিয়া যেন না হয়। প্রশাসন বিষয়টি দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

রোববার বিকেল তিনটা পর্যন্ত কর্মকর্তাদের আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে বীমা গ্রাহকরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। তারা দাবি করেছেন, টাকা না পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলমান থাকবে।