রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। দুই শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন এবং অন্যদের বিক্ষোভ শুরুর পর রোববার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটির কথা জানান। জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ‘নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ সম্পর্কে যেসব সংবাদ ও ফোনালাপের অডিও প্রকাশিত হয়েছে সে সম্পর্কে তদন্তের জন্য কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম আসাদুল হক কমিটির আহ্বায়ক। কমিটিকে দ্রত প্রতিবেদন ও সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর নাট্যকলা বিভাগে প্রভাষক নিয়োগ পরীক্ষায় ২৪ জন অংশ নেন। অভিযোগ উঠেছে, তাসাদুল ইসলাম তারেক, সাইফুল ইসলাম ও শাকিবুল হাসান চূড়ান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে সাইফুল নিয়োগ কমিটির বিশেষজ্ঞ তিতাস জিয়ার সাথে একই নাটকের দলের সদস্য। শাকিবুল বিভাগের সভাপতি মেহবুব আলমের ফেলো। তারেক টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাচ্ছেন বলে ফেসবুকে ছড়ানো ফোনকলের কথোপকথনে অভিযোগ করা হয়।
বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী রাহাত ইসলাম হৃদয়ের দাবি, ‘বিভাগীয় সভাপতি মেহবুব আলমের সঙ্গে কথোপকথন তার। তিনি নিজেও নিয়োগ প্রার্থী। তিনি সিজিপিএ ৪-এ স্নাতকে ৩.৬৩ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৮৬ পেয়ে প্রথম হন। তিনি রাবির এমফিল গবেষক, বর্তমানে রোমানিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তবে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় তিনি ফেল করেছেন।
পরীক্ষার পর রাহাত রাবি উপাচার্যকে পাঠানো ই-মেইলে নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করেন। কিন্তু কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় ২১ সেপ্টেম্বর উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ এবং নিয়োগ বাতিলে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এরমধ্যে রাহাত ও বিভাগীয় সভাপতির কথোপকথনের রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তখন সভাপতি দাবি করেন, ‘প্রযুক্তির সাহায্যে ওই ফোনকল রেকর্ড করা এবং ভুয়া।’ পরে নাট্যকলা বিভাগের থিয়েটার অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুটা) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সাইকোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (বিআইএফপিএস) থেকে অডিও’র ফরেনসিক পরীক্ষা করায়। গত ৯ অক্টোবর প্রদত্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রাহাতের কথোপকথনটি সভাপতি মীর মেহবুব আলমের সঙ্গেই।’ এরপরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
এদিকে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবিতে বিভাগের ৪র্থ বর্ষের সাদেক রহমান ও ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির খান জিয়াম প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল তাদের সাথে অংশ নেন। রবিবার একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে অন্য শিক্ষার্থীরা বিভাগে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর তড়িঘড়ি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।
এর আগে রবিবার বিকেলে রুটা বরাবরে চিঠি দিয়েছেন অ্যালামনাস এএম ফাহদ হোসেন ও আল আরমান হৃদয়। চিঠিতে তারা লিখেন, ‘অডিও কল এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ঘটানাটি কোনভাবেই ধামাচাপার সুযোগ নেই। বিভাগের সভাপতি সভাপতি মীর মেহবুব আলমের এমন কাজের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি করেছে। এ অবস্থায় সোমবারের (২৭ অক্টোবর) সিন্ডিকেট সভা বাতিল এবং সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের সভাপতি মীর মেহবুব আলমকে সভাপতিসহ যে কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িত অব্যাহতির দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগকারী রাহাত ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘কাউকে দায়িত্বে রেখে তার বিরুদ্ধে কমিটি গঠন ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন। উচিত ছিলো চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা, সেটিই আইন। অন্যথায় এটা একটা আই ওয়াশ।’