প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে একদিনের ব্যবধানে আবারও ভেসে উঠেছে একটি ব্রুড (মা) কাতলা মাছ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে হাটহাজারী অংশের রামদাশ হাট এলাকায় প্রায় ৯ কেজি ওজনের এই স্ত্রী কাতলা মাছটি উদ্ধার করেন নদীর পাহারাদার মো. আলমগীর।
রাউজান সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন ফাহিম রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রায় ২৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের এই কাতলা মাছটির বয়স ছিল আনুমানিক ৫–৬ বছর। মাছটির মাথার সামনের অংশে (ফ্রন্টাল হাড়ে) গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং একপাশের অপারকুলার হাড় প্রায় ভেঙে গেছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাছটি স্ত্রী এবং কোনো শক্ত বা ধারালো বস্তুতে আঘাত লেগেই মারা গেছে। মাছটির অর্ধেকের বেশি অংশ পচে যাওয়ায় সুরতহাল শেষে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
এর একদিন আগে নদীর রাউজান অংশের আজিমের ঘাট এলাকা থেকে প্রায় ২০ কেজি ওজনের পুরুষ কাতলা মাছ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে গত ছয় মাসে হালদা নদী থেকে মোট ৭টি ব্রুড মাছ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ব্রুড মাছগুলোর মধ্যে- ৪ মে: রাউজানের মুন্সির মাঝির ঘাট থেকে ৫ কেজি ওজনের কাতলা মাছ, ২২ জুন: হাটহাজারীর উত্তর রামদাশ মুন্সির হাট থেকে ১৩ ও ৮ কেজির দুটি কাতলা, ৪ আগস্ট: শাহ মাদারী হ্যাচারী এলাকা থেকে ১৩ কেজির মা মৃগেল মাছ, ২২ অক্টোবর: রাউজানের মগদাইর স্লুইস গেইট এলাকা থেকে ২ কেজির আইড় মাছ, এবং সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর ৯ কেজির মা কাতলা মাছ উদ্ধার হয়।
হালদা নদীর ডিম সংগ্রহকারী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নদীর পাহারাদার রোসাঙ্গীর আলম জানান, নদী ও শাখা–খালে কিছু অসাধু জেলেরা প্রচুর পরিমাণে বিষ ঢেলে মাছ শিকার করছে। এতে করে ব্রুড মাছগুলো মারা যাচ্ছে। এছাড়া বরশির আঘাত, ইঞ্জিনচালিত নৌকার পাখার ধাক্কা এবং শিল্পকারখানার বর্জ্যে নদী দূষিত হয়ে মা মাছ মারা পড়ছে।
তিনি আরও জানান, অনেক মাছ নদীতে ডুবে যায় বা ভেসে কর্ণফুলীতে চলে যায়। কিছু তাজা মাছ স্থানীয়রা তুলে নিয়ে যায়। তাই প্রকৃত সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি হতে পারে। হালদা রক্ষায় প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।
গবেষকরা বলছেন, এসব মৃত্যুর ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে নদী দূষণ, অবৈধ বালু উত্তোলন ও শিকারজনিত আঘাতের মতো মানবসৃষ্ট কারণগুলো এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। নদীর জলজ পরিবেশের ক্রমাগত অবনতি মা মাছের অস্তিত্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের ডিম উৎপাদন ও মাছের প্রজনন ব্যবস্থার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।