গৌরীপুরের ১১ গ্রামে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও নদের করাল গ্রাসে গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের ৮টি গ্রামে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া নদের পানি ঢুকেছে ইউনিয়নের ৩ গ্রামে। এতে তলিয়ে গেছে সব ঘরবাড়ি। গ্রাম ছেড়ে স্বজনদের বাড়ি ও খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিচ্ছে দুর্গত মানুষজন।

জানা গেছে, চলতি বছর বর্ষার শুরুতেই ব্রহ্মপুত্র নদঘেঁষা ভাংনামারী ইউনিয়নের অনন্তগঞ্জ, ভাটিপাড়া, ভাংনামারীর চর, বয়রা, খোদাবক্সপুর, দূর্বাচর, গজারিপাড়া, খুলিয়ারচর সহ ৮ গ্রামে ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনের ফলে ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক, কালর্ভাটসহ সহস্রাধিক একর ফসলি জমি।

গ্রামবাসী জানান, ছয় বছর আগে চাঁদা তুলে নদে বাঁধ নির্মাণ করলেও পরের বছর তা নদে বিলীন হয়ে যায়। এ বছর বর্ষার শুরুতেই নদে ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সরজমিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে ইউনিয়নের মাঝের টেক, চরভবখালি, উজান কাশিয়ার চরের ২ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫শতাধিক পরিবার। নদের পানিতে তলিয়ে গেছে অনন্ত ফেরিঘাট ও বয়রা বাজারের প্রবেশ পথ। উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে অনেকের নৌকা ডুবে গেছে অথবা ভেসে গেছে। এতে অনেকের আয় রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। 

এদিকে ভাটিপাড়া ও খোদাবক্সপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদ ভাঙতে ভাঙতে গ্রামবাসীর দুয়ারে চলে এসেছে। গত দুই সপ্তাহে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে নদে। ঘর হারানো পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে রান্না-বান্না করছে। নদে বিলীনের আশঙ্কায় গাছপালা কেটে ও ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে গ্রামবাসী। এরমধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে হুমকিতে আছে ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ভাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুজাত মিয়া বলেন, ‘১০ বছর আগেও নদ বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ছিলো। এখন ভাঙতে ভাঙতে ঘরের দরজায় চলে এসেছে। ভাঙন রোধে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না করা হলে আগামী বছর ভাটিপাড়া গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন: আলমডাঙ্গায় ছাত্রের মাথা কাটা মামলায় মাদ্রাসা সুপারের ৫ দিনের রিমান্ড

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন খান বলেন, ‘আমরা ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে পানিবন্দী পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি। ভাঙন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানো হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ইত্তেফাক/নূহু