কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। ছোটো আয়তনের দেশ, চাষাবাদের জায়গা কম, অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে জনসংখ্যা। বিপুল এ জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মিটাতে সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষাবাদ করে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। স্বাধীনতা-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠিত করে ক্ষুধামুক্ত দেশে পরিণত করতে কৃষিবিদদের ভূমিকাই ছিল মুখ্য। দেশের কৃষিকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করতে চাই উন্নত কৃষি পড়াশোনা। দেশে-বিদেশে গবেষণা করে নতুন জাত উদ্ভাবন, ফসলের প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্যের মূল্যমান বৃদ্ধি, কৃষি বিপণন ও রপ্তানি কিংবা কৃষি উদ্যোক্তা হতে ইচ্ছুক। সে সকল শিক্ষার্থী কৃষি নিয়ে পড়তে পারেন।

 

কোথায় পড়ানো হয়

বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি দেয়া হচ্ছে সেগুলো হলো:বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মো. দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঝিনাইদহ ভেটেরিনারি কলেজ, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারিজ কলেজ।

 

কী পড়ানো হয়

বর্তমানে বাংলাদেশে যে সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষিতে উচ্চতর ডিগ্রি দেয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে কৃষি, মত্স্যবিজ্ঞান, প্রাণী চিকিত্সা, পশুপালন, কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি, কৃষি অর্থনীতি এবং এগ্রি বিজনেস অনুষদে বিভিন্ন বিভাগে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয়।

 

চাকরির ক্ষেত্র

বিসিএস পরীক্ষায় কৃষিবিদরা টেকনিক্যাল ও সাধারণ— উভয় ক্যাডারে আবেদনের সুযোগ পান। সরকারি ও বেসরকারি সব ব্যাংকে চাকরি করছেন কৃষিবিদরা। ভালো ফল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ রয়েছে। অনেকেই সরকারি কলেজেও শিক্ষকতা করছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে লেকচারার হিসেবে যোগ দিতে পারেন।

কৃষি অনুষদ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা বিসিএসের মাধ্যমে উপজেলাগুলোতে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হয়ে যোগ দেন। তাছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউট, মৃত্তিকা গবেষণা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে যোগ দিচ্ছেন। দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আমিষের চাহিদা পূরণে ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল হাজব্যান্ড্রি স্নাতকদের রয়েছে অসামান্য অবদান। বিসিএস পরীক্ষায় ভেটেরিনারিয়ানরা উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন এবং পশুপালন অনুষদের স্নাতকরা, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, পশু উত্পাদন কর্মকর্তা কিংবা পোলট্রি উন্নয়ন কর্মকর্তা হয়ে যোগদান করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতেও রয়েছে আলাদা ভেটেরিনারি কোর। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হয়ে যোগ দেওয়া যায়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ফার্ম, গবেষণা কেন্দ্রসহ দেশ-বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।

মত্স্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা বিসিএসের মাধ্যমে উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা এবং মত্স্য সমপ্রসারণ কর্মকর্তা হয়ে যোগদান করেন। বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, স্বাদু পানি কেন্দ্র, নদী কেন্দ্র, লোনা পানি কেন্দ্র, চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রসহ  বাংলাদেশ মত্স্য উন্নয়ন কর্পোরেশন ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ থাকছে।

 

কৃষি নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা

এদেশের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। কৃষির যথেষ্ট গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও কৃষিকে ঘিরে রয়েছে মানুষের ভুল ধারণা। অনেকে মনে করেন মাঠে ফসল উত্পাদন ও বিপণন, পুকুরে মাছ চাষ, গবাদিপশু চিকিত্সা ও প্রতিপালনই কেবল কৃষি। ফলে অনেকেই কৃষি পড়াশোনায় অনীহা প্রকাশ করেন। এ রকম ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কৃষিপ্রধান দেশে কৃষিবিদ্যার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে কৃষিতে উচ্চশিক্ষার বিকল্প নেই। কৃষিবিদরাই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের কাছে আধুনিক কৃষি সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন।