মাত্র ১০ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্লাস শুরু করে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাইরান কাজী। যে বয়সে স্কুলের বারান্দায় দাপিয়ে বেড়ানোর কথা, সে বয়সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে সে! এমআইটিতে মাস্টার্স আর ক্যামব্রিজে পিএইচডি করার জন্য আগ্রহ আছে তার। এরমধ্যে সে কাজ শুরু করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের সঙ্গেও।
কাইরান কাজীর বয়স ১০ বছর। বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। পড়াশোনা করছেন ক্যালিফোর্নিয়ার লস পাসিটোস কলেজে। সমবয়সীরা যখন ক্লাস ফোরে পড়ছে, তখন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্লাস করছে কাইরান। পড়ছে গণিত, রসায়ন, মনোবিজ্ঞানের মতো কঠিন সব বিষয়ে। তিন বছর বয়স থেকে বিশ্বপরিস্থিতি কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে কাইরানের বিশ্লেষণ মানুষকে অবাক করত।
লেখাপড়ার পাশাপাশি আগ্রহ আছে মার্শাল আর্টস, পিয়ানো বাজানো ও ভিডিও গেমসে। দুরন্তপনায় কম যায় না কাইরান। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়লেও নিজ বয়সীদের সঙ্গে খেলতেই বেশি ভালোবাসে সে। কাইরানের মা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জুলিয়া চৌধুরী ও বাবা মুস্তাহিদ কাজী। গতানুগতিক পেশার বাইরে গিয়ে উদ্ভাবক হতে চাওয়া কাইরান কাজ করছে ইন্টেলের আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্স শাখায়। এরই মধ্যে রপ্ত করেছে কম্পিউটার কোডিং ল্যাঙ্গুয়েজ। বুদ্ধিবৃত্তিক পরীক্ষায় যার গড় নম্বর ৯৯.৯৯ শতাংশ। নাম উঠেছে ডেভিডসন ইনস্টিটিউট ইয়ং স্কলারের তালিকায়। শিখছে বাংলা ও মান্দারিন ভাষা। রোহিঙ্গাদের দুঃখ-কষ্ট ছুঁয়ে যায় শিশু কাইরানকে। বাংলাদেশের ভূমিকায় প্রশংসা ঝরে তার কণ্ঠে। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কাজ করতে চায় বিস্ময় বালক কাইরান কাজী।