সাফল্যের পথে বাধা হতে পারেনি কিছুই

মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা জুয়েল ঢালীর স্বপ্ন বরাবরই ছিল বড়। নানা ঘাত-প্রতিঘাত থাকলেও সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার জন্য তাঁর সাফল্যের পথে বাধা হয়নি কিছুই। জেডিকে ফ্যাশন লিমিটেড ও হাভেলি রেস্টুরেন্টের চেয়ারম্যান মো. রাকিবউদ্দিন জুয়েল ঢালীর উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প জানাচ্ছেন সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার 

 

কলেজে পড়ার সময় থেকেই ফ্যাশন ডিজাইনিং ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। ২০০২ সালে একটি ফ্যাশন হাউসে চাকরি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০০৩ সালে বায়িং হাউস ও ২০১৪ সালে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি দিয়ে নিজের ব্যবসা শুরু করেন মো. রাকিবউদ্দিন। পরিচিতজনদের কাছে যিনি জুয়েল ঢালী নামেই বেশি পরিচিত। সেই সুবাদে ইন্ডিটেক্স গ্রুপের জারা, পুল অ্যান্ড বিয়ার, ব্রেসকার মতো বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয় তাঁর। নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি পোশাক ব্যবসা শুরু করলেও, শুরুতে অনেক চ্যালেঞ্জিং সময় পার করেই নিজেকে বর্তমান অবস্থান নিয়ে আসেন জুয়েল ঢালী।

চাঁদপুরে জুয়েল ঢালীর পড়াশোনার হাতেখড়ি। সেখানে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকায় চলে আসেন। খিলগাঁও সরকারি হাইস্কুল থেকে এসএসসি, মিরপুর কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের অনুপ্রেরণা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জুয়েল ঢালী বলেন, ‘নিজের উদ্যোগেই ব্যবসা শুরু করি। ভেতরে ভেতরে ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার চরম ইচ্ছা ছোটকাল থেকেই ছিল। বায়িং হাউস দিয়ে শুরু করার কিছুদিন পর ফ্যাক্টরি চালু করি। সম্পূর্ণ রপ্তানিমুখী ফ্যাক্টরি। পৃথিবীর নামীদামি ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করে আমাদের ফ্যাক্টরি। শ্রমিক, কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ কাজ করেন আমাদের ফ্যাক্টরিতে।’ জুয়েল ঢালী শুরুতেই সফল হননি। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পার করেই তিনি বর্তমান পর্যায়ে এসেছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণেই নিজেকে কষ্ট করে এগোতে হয়েছে। সবসময়ই ভালো কিছু করার প্রত্যয় রেখেছেন মনে। জুয়েল ঢালী বলেন, ‘সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা; সর্বোপরি ধৈর্য—এসব কারণেই আজ এখানে এসে পৌঁছেছি। আজ আমি দুটি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক ফ্যাক্টরি ও দুটি রেস্টুরেন্টের মালিক।’ জুয়েল ঢালীর ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা, দেশের সাধারণ মানুষের জন্য আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং সমাজের মানুষের জন্য ভালো কিছু করা। ইউরোপে বাংলাদেশের একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।