জামালপুরে দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট মরদেহ রাখার ফ্রিজ

জামালপুরে দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ রাখার জন্য থাকা দুটি ফ্রিজ নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি ফ্রিজের দুইটি চেম্বার সচল থাকলেও সেখানে নিয়মিত মরদেহ রাখা হয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে শোকের সময় মৃতের পরিবারকে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় এবং নানা ধরনের দূর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্রিজের চেম্বার দ্রুত ঠিক করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলার দুর্ঘটনা, হত্যা, অপমৃত্যু বা সন্দেহজনক মৃত্যুর ক্ষেত্রে মরদেহ আনা হয় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে। মর্গে মরদেহ রাখার জন্য দুটি ফ্রিজ রয়েছে, প্রতিটি ফ্রিজে চারটি করে চেম্বার। মর্গ হাসপাতালের প্রাঙ্গণে থাকলেও এর দায়িত্বে রয়েছে জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ।

মর্গ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একটি ফ্রিজ কয়েক বছর আগে স্থাপন করা হলেও এটি কখনোই পুরোপুরি চালু হয়নি। দ্বিতীয় ফ্রিজটি ২০২২ সালে স্থাপন করা হলেও বেশির ভাগ সময় নষ্ট থাকে। সর্বশেষ সাত মাস ধরে দ্বিতীয় ফ্রিজের দুইটি চেম্বার নষ্ট রয়েছে। এতে মরদেহ আনা পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

জামালপুর শহরের বাসিন্দা এহসান বলেন, মর্গে মরদেহ রাখার জন্য বরফ, চাপাতিসহ নানা জিনিস কিনতে টাকা দিতে হয়। শোকের সময় এই খরচ দেওয়া খুবই দুঃখজনক।

স্থানীয় তুর্য নামের একজন জানান, ফ্রিজগুলো নষ্ট থাকায় অজ্ঞাত মরদেহ সংরক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় মরদেহ ঠিকমতো রাখা যায় না। ফ্রিজের দুটি চেম্বার সচল থাকলেও মরদেহ নিয়মিত রাখা হয় না। এতে যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নষ্ট চেম্বার দ্রুত ঠিক করা হবে।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘আজ পর্যন্ত হয়তো দুই একটি মরদেহ ফ্রীজে রাখলে রাখতে পারে। কিন্তু আজ পর্যন্ত মরদেহ ফ্রীজে রাখতে আমরা দেখিনি। এটি দিনের পর দিন বেকার পড়ে আছে। এতে করে যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে করে সরকার কোটি কোটি টাকা ক্ষতির সম্মক্ষিন হচ্ছে।’

জেলার বিশিষ্ট আইনজীবী ইউসূফ আলী বলেন, ‘আমরা এসব ডীপ ফ্রীজে কখনো মরদেহ রাখতে দেখিনি। আমরা এটিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বলবো।’

এসব বিষয়ে জামালপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা: হারুনুর রশিদ বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে আপাতত এসব ফ্রীজে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা দ্রুত গতিতে দুইটি চেম্বার ঠিক করে নেবো। যাতে মরদেহ রাখতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।