টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর তুরাগ নদের উপর স্থায়ীভাবে আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ না হলে এই রুট দিয়ে যাতায়াতকারী সবধরনের যান চলাচল বন্ধ করে অচল করা হবে বলে হুশিয়ার করেছেন টঙ্গীবাজারে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। এই সংকট নিরসনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে অবিলম্বে ব্রিজটির নির্মাণ কাজে জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
বুধবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর পক্ষ এসব কথা তুলে ধরেন হাজী আব্দুস সাত্তার।
সংবাদ সম্মেলন শেষে ডিআরইউ চত্বরে তারা মানববন্ধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাশেদুল ইসলাম কিরণ এবং ব্যবসায়ী ও টঙ্গীর সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
আবদুস সাত্তারের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক কেন্দ্র টঙ্গী বাজারে আসার একমাত্র পথ ছিল তুরাগ নদের উপর টঙ্গী-আব্দুল্লাহপুর সেতু। বর্তমানে তুরাগ নদের উপর অপরিকল্পিত বিআরটি’র উচ্চ ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে আগের ২টি আরসিসি সেতু ভেঙে ফেলা হয়েছে যা স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য মারাত্মক অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আবদুস সাত্তার আরও বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় সময়মত রোগী হাসপাতালে নিতে না পারায় পথেই অনেক রোগী মৃত্যুবরণ করছেন । বিআরটি’র সু-উচ্চ ফ্লাইওভারে টঙ্গী ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীরা দিনে ও রাতে ছিনতাইকারীদের উৎপাতের কারণে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষে চলাচলের জন্য এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকের অঙ্গহানি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এমনকি বিআরটি রাস্তা পারাপারে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অনেকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, আমরা উচ্চতর ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকেই আরসিসি আলাদাভাবে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি। সম্প্রতি সেতুর দাবিতে সকল ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গদের সমন্বয়ে মানবন্ধন কর্মসূচী পালন এবং আন্দোলন করেছি। কিন্তু অদ্যবিধি এই সংকটের কোনও সুরাহা হয়নি। আমরা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, গাজীপুর জেলা প্রশাসক, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপদসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে আবেদন করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমাদের এই দাবির কোনো সদুত্তর দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাই শিগগির টঙ্গীর তুরাগ নদের উপর আরসিসি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়া হলে আমরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক বিক্ষোভ-সমাবেশ করতে বাধ্য হবো। এমনকি ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।