দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লাঞ্ছিত, অভিযুক্ত দালালের ৩ মাসের কারাদণ্ড

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে দালালের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খান। ওই ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্ত দালাল আক্তার হোসেনকে (৩০) তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আটক আক্তার হোসেন দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেবিদ্বার উপজেলায় প্রায় ৩৭টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল চক্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে জিম্মি করে রেখেছে। এতে রোগী ও স্বজনরা নিয়মিত প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীল অভিযানে দালালরা একাধিকবার আটক হলেও পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কাজে জড়িয়ে পড়েন।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে পরিদর্শনে গিয়ে জরুরি বিভাগে দালাল আক্তারকে বেরিয়ে যেতে বললে ডা. মহিবুস সালাম খানকে লাঞ্ছিত করা হয়। এসময় ডা. মহিবুস সালাম খানের শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন আক্তার হোসেন। পরে স্থানীয়রা খবর পেয়ে আক্তারকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম পুলিশসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

সর্বশেষ সরকারি কাজে বাধা, সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আক্তার হোসেনকে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আক্তার হোসেন হাসপাতালের রোগী, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, হুমকি এবং মারধরের অভিযোগে আগেও  একাধিকবার কারাগারে ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম খান বলেন,  জরুরি বিভাগে দালালকে দেখে বেরিয়ে যেতে বললে সে গড়িমসি করে। একপর্যায়ে তাকে বের করতে গেলে আমাকে লাঞ্ছিত করে এবং শার্ট ছিঁড়ে ফেলে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও রাকিবুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালালমুক্ত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অপরাধে একজনকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।