বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জানা যায়, বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। প্রতিবছরের আগস্ট মাসে নতুন প্যানেল অনুমোদনের নিয়ম থাকলেও এবার তা কার্যকর করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে।
তথ্যমতে, প্রথম শ্রেণির ৬ হাজারেরও বেশি পদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার পদ এখনো খালি।
এদিকে, পদোন্নতির জন্য যোগ্য কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তা স্থগিত রয়েছে। গত ১৯ মে অতিরিক্ত পরিচালক (এডি) পদে সর্বশেষ পদোন্নতি দেওয়ার পর থেকে আর কোনো পদোন্নতি হয়নি। সেপ্টেম্বর মাসে পদোন্নতির কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে, চারটি নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদ শূন্য হলেও তাতে নিয়োগের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। পদোন্নতি স্থগিতের বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, গভর্নরের ফ্লোরে কর্মকর্তাদের প্রবেশ সীমিত করে দরজায় তালা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক কর্মকর্তা। তাদের মতে, ‘এটি অত্যন্ত অপমানজনক ও দৃষ্টিকটু একটি সিদ্ধান্ত, যা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।’
অনেকের ধারণা, কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রাখার উদ্দেশে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও নথিপত্র সরবরাহ করে আসছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৪৪ ধারার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ব্যাংকের পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেন, যা মূলত নমুনাভিত্তিক। সব ব্যাংকের সব ঋণ কার্যক্রম পরিদর্শনের আওতায় আনা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুদকের সাম্প্রতিক এক পত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা বাস্তবতা বিবর্জিত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এর ফলে পরিদর্শন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা অযথা হয়রানি ও মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের স্থবিরতা এখন সেখানে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণ মাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়। কিছু প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে, তবে শীঘ্রই তা সম্পন্ন হবে।’ সূত্র: জনকণ্ঠ