ইত্তেফাকের অনলাইন সংস্করণে গত ৯ নভেম্বর ‘কিস্তি দিতে না পারায় গৃহবধূর আংটি ও বদনা নিয়ে গেলো এনজিও’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে এনজিওটি।
প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, ডিএফইডি বরিশাল জোনের বাগেরহাট এরিয়ায় চিতলমারী ব্রাঞ্চের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক খবর প্রচার করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, মো. তৌহিদুর রহমান, উপজেলা প্রতিনিধি, চিতলমারী, বাগেরহাট। তিনি ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ডিএফইডি) চিতলমারী অফিসের সদস্য। তার কোড: ১৭৪-০২২-০১৫। তিনি আমাদের ব্রাঞ্চ থেকে গত ১৯/১১/২০২৪ইং তারিখে ২,০০,০০০/- বিনিয়োগ নিয়ে খেলাপি সদস্য হওয়ায় পুনরায় তাকে বিনিয়োগ দেওয়া হয়নি, বিনিয়োগ না দেওয়ায় তিনি শ্রাবণী হীরা নামক নারীকে প্ররোচনার মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতিষ্ঠানের সম্মান নষ্ট করার জন্য এ কার্যক্রম করাচ্ছে।
মূল ঘটনা উল্লেখ করে প্রতিবাদপত্রে আরও বলা, শ্রাবণী হীরা, স্বামী: রিপন রায়, গ্রাম: উত্তরপাটরপাড়া, চিতলমারী। তিনি ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ডিএফইডি) এর চিতলমারী শাখার সদস্য, সদস্য নম্বর ১৭৪-০২২-০১৪ তিনি গত ১৪/০৬/২০২৫ ইং তারিখে ৫০,০০০/- টাকা বিনিয়োগ নেন। কিন্তু বিনিয়োগ নেওয়ার ২টি কিস্তি দেওয়ার পর সদস্যের স্বামী বাড়ি থেকে পলায়ন করে। অফিস থেকে বার বার তাগাদা দেওয়া হলেও বার বার সময় নেয় কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো টাকা দেয় নাই। বার বার টাকা চাওয়ার এক পর্যায়ে সে প্রস্তাব করে টাকার বিনিময়ে তার কিছু জিনিসপত্র নিতে, প্রথমে অফিস রাজি না হলেও সে বলে এভাবে ছাড়া সে টাকা দিতে পারবে না। অতপর তিনি বাজারমূল্য যাচাই করে স্বেচ্ছায় এসে অফিসে একটি আংটি ও দুটি কাসার বদনা দিয়ে যায় যার বাজারমূল্য ৮৮০০/- টাকা। উল্লেখ থাকে যে সদস্য এবং তার শাশুড়ি ১ মাসের মধ্যে টাকা দিয়ে মালামাল ফেরত নিয়ে যাবে। এমতবস্তায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার জন্য দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় খবর প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ তিনি ৪০,০০০/- টাকা ঋণ নিয়েছে তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রকৃতপক্ষে তিনি ৫০,০০০/- টাকা ঋণ নিয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য:
ডাম এনজিওর পক্ষ থেকে পাঠানো বক্তব্যের শুরুতে বিশেষভাবে মো. তৌহিদুর রহমানের নাম উল্লেখ রয়েছে। চিতলমারী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও একজন স্বনামধন্য সাংবাদিক।
তৌহিদুর রহমান জানান, তিনি ডাম এনজিও থেকে ২ লাখ টাকা লোন নিয়েছিলেন। বর্তমানে এক কিস্তি বাকি রয়েছে। তিনি এনজিওর কর্মীকে জানিয়েছিলেন, তার সঞ্চয় থেকে বাকি কিস্তি সমন্বয় করে ডিপিএসের টাকা ফেরত দিতে হবে। এনজিওর সঙ্গে তার সুসম্পর্ক আছে এবং তারা প্রায়ই তার দোকানেও আসেন।
গত ৮ নভেম্বর সরেজমিনে শ্রাবণী হীরার বাড়ি গেলে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি ডাম এনজিও থেকে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। এছাড়াও ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কিছু হৃদয়বিদারক দৃশ্যের তথ্য শেয়ার করেন।
৯ নভেম্বর দুপুরে ইত্তেফাক অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর চিতলমারী ও বাগেরহাটে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর বিভিন্ন টেলিভিশন, জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্র, অনলাইন পত্রিকা এবং ফেসবুকে ‘কিস্তি দিতে না পারায় গৃহবধুর আংটি ও বদনা নিয়ে গেল এনজিও’ শিরোনামের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে ওই এনজিওর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তবে তাদের অনেক দুর্নীতির তথ্য সাংবাদিকদের হাতে পৌঁছেছে। এই কারণে তারা সংবাদ মিথ্যা দাবি করে প্রকাশ না করার জন্য ঢাকায় পত্রিকা অফিসে অনুরোধ করছেন।