বানরের উৎপাতে অতিষ্ঠ ফেনীর কৃষক, পোষা কুকুর নিয়ে দিচ্ছেন পাহারা

বনের ভেতর ওত পেতে থাকে দলে দলে বানরের পাল। কাউকে না দেখলে দেড় থেকে ২ হাজার বানর একসঙ্গে পাকা ধানে হানা দেয়। নিমেষেই খেয়ে ফেলে কৃষকের স্বপ্নের পাকা ধান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ধানখেতে। কখনো কখনো পোষা কুকুর নিয়েও পাহারা দিতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে ধর ধর বলে চিৎকার চ্যাঁচামেচিও করতে হয়।

এমন ঘটনা ঘটছে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর, জয়চাঁদপুর, বীরচন্দ্রনগর, মহেশপুষ্করনি, রাঙ্গামাটি গ্রামগুলোতে।

ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা। ভারতের প্রায় ৯০.৫৫ বর্গ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ঐ এলাকাগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে অসংখ্য কৃষক নিজ নিজ পোষা কুকুরসহ লাঠি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ধানখেতের পাশের আইলে। বনের ভেতরে ও গাছে
বানরের উপস্থিতি টের পেলেই চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে ঢোল পিটিয়ে ও কুকুর দিয়ে ধাওয়া করে বানর তাড়াচ্ছেন।

কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি চলতি আমন মৌসুমে ৬০ শতক জমিতে চাষাবাদ করেছি। কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করার কথা। কিন্তু বানরের পাল আমার ২০ শতক জমির পাকা ধান খেয়ে ফেলেছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’

পরশুরাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু বানরের বিষয়টি বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের, তার পরও পাকা ধানে বানরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের সতর্কতার সঙ্গে পাহারা দিয়ে পাকা ধান রক্ষার পরামর্শ দিচ্ছি।’

পরশুরাম উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু নাসের জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ভারতীয় জঙ্গলে খাবারের সংকটের কারণে বানরের পাল খাবারের সন্ধানে বাংলাদেশে পাকা ধানে হানা দিচ্ছে। আমাদের বন বিভাগের দায়িত্বরত ফরেস্টর ও বনমালিদের টহল জোরদার করেছি।’