পটুয়াখালী জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে জাফর হাওলাদার (৫৫) নামের সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
জাফর হাওলাদার বড় বিঘাই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে পরিবার ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য একেবারে বিপরীত হওয়ায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
পরিবারের দাবি, জাফরকে কারাগারে ‘হত্যা’ করা হয়েছে। জাফরের ভাই মিজান হাওলাদার বলেন, ‘২০১৬ সালে দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। ১১ নভেম্বর রাতে বড় বিঘাইয়ের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে—তা জানানো হয়নি। মৃত্যুর খবরও আমরা হাসপাতাল বা কারাগার থেকে পাইনি; ফেসবুকে পোস্ট দেখে জানতে পারি।’
জাফরের ভাগ্নি রুমা বেগমের অভিযোগ, ‘মামাকে কারাগারের ভেতরেই মেরে ফেলা হয়েছে। শুধু দেখানোর জন্য হাসপাতালে আনা হয়েছে। মৃত্যুর খবরও আমাদের জানানো হয়নি। মামা আওয়ামী লীগ করতেন না, অথচ আওয়ামী লীগের পরিচয় দেখিয়ে তাকে আটক দেখানো হয়েছে। আমরা সঠিক তদন্ত চাই। আমরা ময়নাতদন্ত করতে দেব না।’
অন্যদিকে কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, জাফর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কারা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারাগারের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার পর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ইসিজি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
কারাগারে সংযুক্ত সিভিল সার্জন অফিসের সহকারী সার্জন ডা. জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, জাফর কার্ডিয়াক জটিলতায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানেই তিনি মারা যান।
পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার আতিকুর রহমান বলেন, আসামি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়েছে, তারা এসে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।