মাদারগঞ্জে ৬ষ্ঠ দিনে উপজেলা ঘেরাও

আমানত না পেলে উপজেলা পরিষদের জমিতে ঘর তুলে বসবাসের ঘোষণা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে সমবায় সমিতির আমানত ফেরত না পেলে উপজেলা পরিষদের জমিতে ঘর তুলে বসবাস করার ঘোষণা দিয়েছেন আমানত উদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক শিবলুল বারী রাজু।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সমবায় সমিতির আমানত ফেরতের দাবিতে উপজেলার ঘেরাও কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনে তিনি এ ঘোষণা দেন। সকালে মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতারিত গ্রাহকরা হাঁড়ি-পাতিল, চাল-ডাল, কাঁথা-বালিশসহ রান্নার উপকরণ নিয়ে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হন।

চর বওলা গ্রামের শাহা আলী ও ফাজিলপুর গ্রামের ফাহিমা বেগম জানান, তারা রান্নার সরঞ্জামসহ কাঁথা-বালিশ নিয়ে এসেছেন—এখানেই রান্না করে খাবেন এবং আমানত ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত উপজেলা পরিষদে অবস্থান করবেন।

গত ৬ দিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা উপজেলা পরিষদের মূল ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এর ফলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ অন্তত ২৯টি সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। জন্মনিবন্ধন, ভূমি সংক্রান্ত কাজ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বিতরণসহ নানা সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।

আমানত উদ্ধার সহায়ক কমিটির আহ্বায়ক শিবলুল বারী রাজু বলেন, মাদারগঞ্জের ২৮টি সমবায় সমিতিতে প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের সাড়ে সাতশ’ কোটি টাকার আমানত আটকে আছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এ প্রতারণা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে হবে। তা না হলে আন্দোলন চলবে।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির শাহের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, মাদারগঞ্জ উপজেলার ২৭টি সমবায় প্রতিষ্ঠান উচ্চ সুদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে সাড়ে সাতশ’ কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহ করলেও গত দুই বছর ধরে অফিস বন্ধ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।