চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) প্রতিযোগিতা ছাড়া বিদেশি কোম্পানিকে হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি হয়েছে আজ। গত ১২ নভেম্বর এ রিটের সর্বশেষ শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ আদালত থেকে সময় চেয়ে নেয়। তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তারা আদালতকে জানান, ১৯ নভেম্বরের মধ্যে সরকার কিংবা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো তৎপরতা চালাবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করেছে। গত ১৬ নভেম্বর রবিবার বন্দর কর্তৃপক্ষ নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে হস্তান্তরের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করেছে। কমিটিটি অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (অর্থ) মো. মাহবুব আলম তালুকদারকে। সদস্য রাখা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির তিনজন প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃক মনোনীত একজন বাহিরের সদস্য এবং বন্দরের উপ-প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাজী মেরাজ উদ্দিন আরিফকে।
রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আনোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, মামলাটি শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ। অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আদালত স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। তারপরও সরকারি দপ্তর কর্তৃক এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ আদালত অবমাননার শামিল।
তিনি জানান, বিষয়টি তারা আদালতের সামনে উপস্থাপন করবেন।
উল্লেখ্য, কোনো প্রকার দরপত্র ছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নেয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও বিগত সরকারের এ কার্যক্রম এগিয়ে নেয়। এ প্রেক্ষিতে যুব অর্থনীতিবিদ ফোরাম আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে। রিটের শুনানির মাঝেই অন্তর্বর্তী সরকার টার্মিনাল হস্তান্তরের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক সংগঠন ও সামাজিক শক্তিসমূহ এ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আন্দোলন করছে। এমনকি পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল এবং লালদিয়া টার্মিনালও দ্রুততার সাথে বিদেশি কোম্পানিকে হস্তান্তর করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।