স্মরণাতীত কাল থেকে বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় মাছ অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট কারণে ও ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর চাহিদার জন্য মাছের প্রাচুর্যতায় ভাটা পড়েছে। তবে চাষ ব্যবস্থার যথাযথ সম্প্রসারণ হলে এবং চাষিদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে অতীতের সুখকর স্মৃতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
‘পদক্ষেপ’ ও ‘পিকেএসএফ’ দ্বারা বাস্তবায়িত আরএমটিপি প্রকল্পের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ জেলার প্রান্তিক মৎস্য চাষিদের উন্নয়নে কাজ করছে। চাষিদের নিরাপদ মাছ চাষ ও উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বাজার তৈরি, উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধিসহ খাবারের পুষ্টিমান বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রান্তিক চাষিদের মাছ চাষে আরও উৎসাহিত করতে বুধবার (১৯ নভেম্বর) গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কার্যালয়ে একটি মেন্টরিং প্রোগ্রাম ও সম্মাননা প্রদান কর্মশালা আয়োজন করা হয়।
উক্ত কর্মশালায় নতুন ও অভিজ্ঞদের মিশেলে প্রায় ৫০ জন মৎস্য উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্য থেকে ১৩ জন মৎস্য চাষিকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং চাষিরা তাদের সফলতার গল্প উপস্থিত সকলের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন।
উক্ত সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পদক্ষেপ এর সিনিয়র ম্যানেজার ও এরিয়া ম্যানেজার মো. আনোয়ারুল ইসলাম, পদক্ষেপ এর ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. নাসির উদ্দিন, প্রকল্পের ভ্যালু চেইন ফ্যাসিলেটেটর কৃষিবিদ মো. লেমন মিয়াসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, আজ আপনারা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কার পেলেন, এটা যেমন সম্মানের তেমনি নিরাপদ মৎস্য ও মৎস্য পণ্য উৎপাদনে আপনাদের দায়িত্ব অনেকগুণ বেড়ে গেছে। এরপর আপনারা জেলার বাইরের পাশাপাশি দেশের বাইরে কীভাবে মৎস্য সম্পদ বাজারজাত করা যায় সে চেষ্টা করতে হবে। তবে অবশ্যই সরকারি বিধিমালা ও সনদের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রকল্পের ভিসিএফ কৃষিবিদ লেমন মিয়া বিশ্বাস করেন, নির্বাচিত সফল চাষিদের সফলতার গল্পগুলো তাদের নিজেকে এবং অন্যান্য মৎস্য চাষিদের উৎসাহিত করবে, একই সঙ্গে বাংলাদেশকে মাছ চাষে পৃথিবীর ১ নাম্বার দেশ হিসেবে উপস্থাপন করবে।
নির্বাচিত চাষিরা হলেন, তন্ময় সেন (লিড ফার্মার), ইলা বিশ্বাস (আধা-নিবিড় প্রদর্শনী), হৃদয় শেখ (রেডি টু কুক প্রদর্শনী), রিনা রায় বল্লভ (বিকল্প কর্মসংস্থান প্রদর্শনী), মনির হালদার, (দ্রুত বর্ধনশীল মাছ প্রদর্শনী), বিষ্ণুপদ বিশ্বাস (দ্রুত বর্ধনশীল মাছ প্রদর্শনী), সুলতানা নাজমিন মিতা (রেডি টু ইট প্রদর্শনী), হাসান মিনা (প্রোবায়োটিক প্রদর্শনী), বিজন সরকার (প্রোবায়োটিক প্রদর্শনী), মাবিয়া রহমান ইমন (সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রগতিশীল উদ্যোক্তা), আওলাদ মোল্লা (আড়তের মান উন্নয়ন), রিপন বসু (ফার্ম মেকানাইজেশন প্রদর্শনী), তন্ময় ঠাকুর (আইওটি প্রদর্শনী)।