খায়রুল হকের রায়ে পরতে পরতে ভুল ছিল: ব্যারিস্টার কাজল

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনের মাধ্যমে প্রবর্তিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া ১৪ বছর আগের রায় বাতিল ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্ট।

আপিল বিভাগের এই ঐতিহাসিক রায়ের পর বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিএনপির আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এক সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি আদালত কর্তৃক এই আপিল সর্বসম্মতভাবে মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং রায়ের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দস কাজল বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এই রায়টি সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই সরকার ব্যবস্থা আনয়ন করে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। ২০১১ সালে আপিল বিভাগ সেই সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। আজকের রায়ের ফলে, সংবিধানে এই সরকার ব্যবস্থা অটোমেটিক্যালি পুনরুজ্জীবিত হলো, মানুষের ভোটের অধিকার আবারও প্রতিষ্ঠিত হলো।’

তিনি বলেন, ‘আদালত রায়ে বলেছেন, এই রায়ের কার্যকারিতা ভবিষ্যতে অর্থাৎ আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হবে না। এটি কার্যকর হবে আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।’

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দস বলেন, ‘আজকের রায়ে আপিল বিভাগ বলেছেন, ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ের পরতে পরতে ত্রুটি ছিল। ফলে খায়রুল হকের রায় পুরোই বাতিল করেছেন আদালত।’

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই ব্যবস্থার কারণেই ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছিল এবং কিছু বিচ্যুতি সত্ত্বেও ২০০৮ সালে ভোট দিতে পেরেছিল।

ব্যারিস্টার কাজল অভিযোগ করেন যে- শেখ হাসিনা সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার কারণেই বাংলাদেশের মানুষ আজ ভোটারের অধিকারের সুযোগ পাচ্ছে না।