‘দলীয় কর্মকাণ্ডে হতাশ’ হয়ে ইসলামী আন্দোলনে বাংলাদেশে যোগ দিয়েছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার দৌলতুজ্জামান আনছারী। সম্প্রতি সময়ে তার যোগদানের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে জামালপুর-৩ আসনে নির্বাচন করতে আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন দৌলতুজ্জামান আনছারী।
এ ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ওই আসনে বিএনপি থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন দৌলতুজ্জামান। মনোনয়ন না পেয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন তিনি।
তবে দৌলতুজ্জামান আনছারীর দাবি, বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাননি তিনি। বরং বিএনপির দলীয় কর্মকাণ্ড হতাশ হয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ মেলান্দহ বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পরও মেলান্দহ বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক সাদিকুর রহমান শুভ সিদ্দিকী নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে মাঠে সরব রয়েছেন। এরই মধ্যে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ফায়েজুল ইসলাম লাঞ্জুও নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। ওই একই আসনে দৌলতুজ্জামান আনছারীর ধানের শীষের প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু বাবলূকে মনোনয়ন দেওয়ার পর ইসলামী আন্দোলনে যোগ দেন দৌলতুজ্জামান আনছারী।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দৌলতুজ্জামান আনছারী বলেন, আমি বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইনি। আমার কর্মী-সমর্থক বা সুধী মহলের কাছে আলোচনার বিষয়টি ভিন্ন। আমি বিএনপির নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে আমি হতাশ; কিংকর্তব্যবিমূঢ়। তাই আমি নিজে থেকেই ইসলামী আন্দোলনের দর্শনে মুগ্ধ হয়ে দলটিতে যোগ দিয়েছি। দল যদি চায়; আমি নির্বাচনে অংশ নেব এবং এটাই হবে আমার জীবনে শেষবারের মতো প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে গ্রহণ।
এদিকে জামালপুর-৩ আসনে এরই মধ্যে প্রার্থী হিসেবে মুফতি জাহেদুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন। তাই নতুন করে দৌলতুজ্জামান আনছারী নতুন করে দলে যোগ দেওয়ার খবরে নেতাকর্মীদের মাঝে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে যৌক্তিক সমাধানে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রীগই এ বিষয়টি সমাধান হবে।
মেলান্দহ উপজেলা ইসলামী আন্দোলনে সভাপতি মুফতি আনোয়ার হোসাইন এবং সেক্রেটারি মাওলানা মোখলেসুর রহমান বলেন, জামালপুর-৩ আসনে মুফতি জাহেদুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। আনসারী সাহেবের যোগদানের পর তার প্রার্থীতার বিষয়টি আলোচনা চলছে। মূলত কয়েকমাস ধরেই বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। জাহেদুল ইসলামের সঙ্গে সাংঠনিকভাবে আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত বিষয়টি সমাধান হবে।