পঙ্গু হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ১২ বছরের আদু মিয়া। সে 'পাওয়ার টিলার' মেসিনের চালক। ভূমিকম্পের সময় জমিতে মেশিন দিয়ে হাল দিচ্ছিল আদু মিয়া। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে পাওয়ার টিলার মেশিন থেকে ছিটকে পড়ে যান এবং সেই পাওয়ার টিলার মেশিনটি আদু মিয়ার পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার দুই পা-ই মেশিনের চাকার আঘাতে খ্যাঁতলে যায়। কাঁটাগুলো তার দুই পায় গেঁথে যায়। আদু মিয়ার বাড়ি যশোর লোহাগড়া থানার শালনগর গ্রামে। রক্তাক্ত অবস্থা দেখে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করেন, সেখান থেকে অ্যাম্বুল্যান্স এসে প্রথমে লোহাগড়া হাসপাতালে, এরপর যশোর সদর হাসপাতালে আদু মিয়াকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিকালে তাকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে আর আতঙ্কে নিজেকে নিরাপদ স্থানে নিতে এলোপাথাড়ি ছুটোছুটিতে দেশ জুড়েই আহত-নিহত হয়েছে অনেকে। শুক্রবার সকালে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিহত হয়েছে ১০ জন। এই ঘটনায় দেশ জুড়ে আহত হয়েছে শত শত মানুষ। ভেঙে পড়েছে দুর্বল কিছু স্থাপনা। এতে ফাটলসহ কিছু বিল্ডিং হেলে পড়েছে। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে কেউ সড়কে দুর্ঘটনায় শিকার হয়েছে, কেউ-বা জীবন বাঁচাতে লাফিয়ে পড়ে বা ছিটকে পড়ে আহত হয়েছে। এসব আহতরা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কেউ বাড়ি ফিরে গেছে, কেউ-বা হাসপাতালে ভর্তি আছে।
গতকাল রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতল ও শেরেবাংলা জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) ঘুরে দেখা যায়-হাসপাতালে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। জানা যায় গাজীপুর থেকে এসেছে সবচেয়ে বেশি রোগী। গাজীপুর কারখানার প্রায় ২৫২ জন শ্রমিক আহত হয়েছিলেন। তাদের বেশির ভাগই চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন এবং ১৬ জন শ্রমিক রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি আছেন ছয় জন। পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৩ জন।
রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান ইত্তেফাককে বলেন, 'ভূমিকম্পে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ১১৯ জন রোগী চিকিৎসা নেয়। এর মধ্যে ভর্তি আছে ২৩ জন। বাকিদের সেলাই, প্লাস্টার, ড্রেসিং এবং ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা পরবর্তী সময় বহির্বিভাগে যোগাযোগ করবে। যারা ভর্তি আছে, তাদের মধ্যে কারো হাত ভাঙা, কারো পা ভাঙা, কারো পায়ের গোড়ালি ভাঙা। ভর্তি থাকা সবার আঘাতই গুরুতর; তবে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল আছে। প্রথমত আশপাশের জেলা থেকে রোগীরা এসেছে, বেশি এসেছে গাজীপুর জেলা থেকে। যত রোগী এসেছে, তা সামাল দেওয়ার মতো ক্ষমতা আমাদের হাসপাতালের আছে। কিন্তু সেই সক্ষমতা নিশ্চয়ই অসীম নয়' বলে জানান পরিচালক। 'আমরা ভূমিকম্পে আহত ১১৯ জন রোগীর বাইরেও ২২৯ রোগীকে জরুরি বিভাগে সেবা দিয়েছি। সুতরাং সেটা আমরা করতে পেরেছি।'