এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

শিক্ষা, সংস্কৃতি ও লোকায়ত ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (Averroes International School) আয়োজন করেছে তাদের মিরপুর ও উত্তরা শাখার বার্ষিক কার্নিভাল ২০২৫। বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার সঙ্গে এই আয়োজনের অংশ হিসেবে নানা ধরনের সৃজনশীল, শিক্ষামূলক ও অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

২২ নভেম্বর ২০২৫ সকাল ৯টায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মনিকা সোহাগ ও উম্মে হানী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল বাশির, ভাইস প্রিন্সিপাল ফাতিমা জে রহমান ও মাহশিনা মমতাজ, সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক এবং এভেরোজ পরিবারের অন্যান্য পিঠাপ্রেমী, মোট প্রায় ৪০০০ জন।

প্রতি বছরের মতো এবারও পিঠা উৎসবে কার্নিভাল উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী পিঠার বিভিন্ন স্টল সাজানো হয়। মিরপুর শাখায় ৪০টি এবং উত্তরা শাখায় ৩০টি স্টলে ভাপা, পুলি, চিতই, পাটিসাপটা, তেলের পিঠা, মোঠা পিঠা, ফুল পিঠা, মাংসপুলি, মাছ পিঠা, মিষ্টি কুমড়া পিঠা, কমলা পিঠা, বেগুনি পিঠা, ভেজিটেবল রোল, নকশি পিঠা, চিকেন রোল, পোয়া পিঠা, লেমন পিঠা, বরফি পিঠাসহ প্রায় শতাধিক রকমের পিঠার আয়োজন করা হয়।

উল্লেখযোগ্য যে, এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল গত এক দশকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও স্বনামধন্য ইসলামিক ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালে একটি মাত্র ক্যাম্পাস দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান এখন ১১টি ক্যাম্পাসে বিস্তৃত, যেখানে প্রায় ৪,০০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। প্রতিষ্ঠানে সকল শিক্ষার্থীর জন্য কুরআন শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং আগ্রহী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে পূর্ণ হিফয কার্যক্রম। বর্তমানে প্রায় ১,২০০ শিক্ষার্থী হিফয প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত, এবং শতাধিক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই হাফেজে কুরআন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

ঢাকার মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও উত্তরা এলাকায় অবস্থিত তিনটি শাখার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রায় ৬০০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিবছর শিক্ষার্থীরা O Level ও A Level পরীক্ষা সম্পন্ন করে থাকে। স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই O Level ও A Level সম্পন্ন করে বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব হবে এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।