দুর্নীতির দায়ে পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্টের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

পেরুর একটি আদালত গভর্নর থাকাকালে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। 

বুধবারের (২৬ নভেম্বর) এই রায়ের ফলে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভিজকারা দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্টদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেন। 

তিনি ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের মোকেগার গভর্নর ছিলেন। সেই সময় সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিভিন্ন নির্মাণ কোম্পানির কাছ থেকে ৬ লাখ ৭৬ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ঘুষ নেওয়ার দায়ে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিচার প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভিজকারা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে গেছেন। তার ভাষ্য, তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার। রায় ঘোষণার পর এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ভিজকারা বলেন, ‘এটা বিচার নয়, প্রতিশোধ। কিন্তু তারা আমাকে ভাঙতে পারবে না।’ 

এই রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভিজকারাকে সরকারি দায়িত্বে ৯ বছরের জন্য নিষিদ্ধও করা হয়েছে। ভিজকারার আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন। তার বড় ভাই মারিও ভিজকারা। আগামী বছরের এপ্রিলে হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পেরু ফার্স্ট দল থেকে নির্বাচনের পরিকল্পনা করছেন এবং মার্টিন ভিজকারা এই দলটির উপদেষ্টার ভূমিকায় ছিলেন। পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারা। ছবি: রয়টার্স

সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ভোট কক্ষে এর জবাব থাকবে। আমার ভাই মারিও ভিজকারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।’ এই মধ্য-বামপন্থি রাজনীতিক ২০২১ সালে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন, কিন্তু পরে ২০১৯ সালে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করার দায়ে তাকে ১০ বছরের জন্য সরকারি দায়িত্বে নিষিদ্ধ করা হয়।

লাভা জাতো কেলেঙ্কারির তদন্তের দায়িত্বে থাকা কৌঁসুলি দলের জন্য ভিজকারাকে দোষী সাব্যস্ত করা আরেকটি বড় সাফল্য বলেই বিবেচিত হচ্ছে। এই কেলেঙ্কারিতে যুক্ত ব্রাজিলের নির্মাণ কোম্পানি ওদেরব্রেখটের (যা এখন নভোনর নামে পরিচিত) সঙ্গে লাতিন আমেরিকার অনেক দেশের রাজনীতিকদের নাম এসেছে। 

ভিজকারার আইনজীবী এরউইন সিচ্চা অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হিসেবে যেসব কোম্পানির নির্বাহীদের হাজির করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ভিজকারা আগেই দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন। বেশ কয়েকবছর ধরে রাজনৈতিক টানাপড়েনে থাকা পেরু ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬ প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ বা অভিশংসন দেখেছে। এদের প্রায় সবার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। 

ভিজকারাকে লিমার সেই কারাগারে নিয়ে যাওয়া হতে পারে যেখানে আগে থেকেই সাবেক তিন প্রেসিডেন্ট অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে আলেহান্দ্রো টলেডো ও ওলান্তা হুমালা দুজনই দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা খাটছেন, আর পেদ্রো ক্যাস্তিয়োকে আটকে রাখা হয়েছে সাংবিধানিক ধারা ভঙ্গ করে বিদ্রোহ করার অভিযোগে।

সূত্র: রয়টার্স