মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২৯ নভেম্বর) বলেছেন, ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা এবং এর আশেপাশের আকাশসীমা 'সম্পূর্ণরূপে বন্ধ' বলে বিবেচনা করা উচিত। তবে আর কোনো বিস্তারিত জানাননি তিনি। ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে।
ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ক্যারিবিয়ান এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কথিত মাদকবাহী নৌকাগুলোতে মার্কিন হামলায় ইতোমধ্যে ৮০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে। এই পরিস্থিতি দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে 'স্থল অভিযানে' পরিণত হতে পারে। যদিও ট্রাম্প মাদুরোর সঙ্গে একটি ফোনালাপ করেছেন এবং ভেনেজুয়েলার নেতার সম্ভাব্য মার্কিন সফর নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে সংঘাতের কথা মাথায় রেখে- ভেনেজুয়েলার সামরিক সক্ষমতা কী কী?
ভেনেজুয়েলার সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে পরিচিত ছয়টি সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর তুলনায় ভেনেজুয়েলা খুবই কম শক্তিশালী। প্রশিক্ষণের অভাব, কম মজুরি এবং অবনতিশীল সরঞ্জামের কারণে দুর্বলতা রয়েছে।
২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর প্রতি সামরিক আনুগত্য থাকলেও সাধারণ সৈন্যরা স্থানীয় মুদ্রায় মাসে মাত্র ১০০ ডলার আয় করেন। এটি গড়ে একটি পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে যা প্রয়োজন, তার প্রায় এক পঞ্চমাংশ।
সূত্রগুলো বলছে, মার্কিন সামরিক আক্রমণের ক্ষেত্রে অনেক ইউনিট ইতোমধ্যেই ক্যারিবীয় সাগরে সমেবেত করা হয়েছে। এই সামরিক সমাবেশ আরও বাড়তে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর প্রাথমিক অভিজ্ঞতা হলো, রাস্তার বিক্ষোভের সময় নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের মুখোমুখি হওয়া।
মাদুরো বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীতে ৮০ লাখ বেসামরিক নাগরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। কিন্তু একটি সূত্র অনুমান করেছে, কেবলমাত্র হাজার হাজার গোয়েন্দা কর্মী, শাসকদলের সশস্ত্র সমর্থক এবং সেনা সদস্যরা প্রকৃতপক্ষে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপে অংশগ্রহণ করবে।
সামরিক বাহিনীর সরঞ্জামের অভাব রয়েছে - যার বেশিরভাগই রাশিয়ান তৈরি এবং কয়েক দশকের পুরনো। ২০০০ সালে কারাকাস প্রায় ২০টি সুখোই যুদ্ধবিমান কিনেছিল, কিন্তু মার্কিন বি-২-এর তুলনায় এগুলো পিছিয়ে আছে বলে মনে করা হয়। ভেনেজুয়েলার রাশিয়ান তৈরি হেলিকপ্টার, ট্যাঙ্ক এবং কাঁধে চালিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোও পুরানো।
ভেনেজুয়েলা আক্রমণের জবাব কীভাবে দিতে পারে?
রয়টার্সের দেখা সূত্র এবং পরিকল্পনার নথি অনুসারে, ভেনেজুয়েলা মার্কিন বিমান বা স্থল আক্রমণের ক্ষেত্রে গেরিলা-ধাঁচের প্রতিরোধ গড়ে তোলার অথবা 'বিশৃঙ্খলা' সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছেন, তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি। বিষয়টিকে তারা 'দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধ' হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং এতে ২৮০টিরও বেশি স্থানে ছোট সামরিক ইউনিট অন্যান্য গেরিলা কৌশল পরিচালনা করবে।
ভেনেজুয়েলার পাঁচ হাজার রাশিয়ান-নির্মিত 'ইগলা' ক্ষেপণাস্ত্র ইতোমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে - সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মাদুরো এগুলোর প্রশংসা করেছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, যদি কোনো আক্রমণ হয়, তবে সামরিক বাহিনীর ইউনিটগুলোকে ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র বলছে, দ্বিতীয় কৌশল, যাকে 'অরাজকীকরণ' বলা হচ্ছে। যদিও এটি প্রয়োগ হবে কি না, সে বিষয়ে কর্মকর্তারা স্বীকার করেননি। এটি হলে, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সশস্ত্র শাসকদলের সমর্থকদের ব্যবহার করে রাজধানী কারাকাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হবে এবং ভেনেজুয়েলাকে শাসনের অযোগ্য করে তোলা হবে।