লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বিএনপি কর্মী আনোয়ার হোসেন নিহত হওয়ার আট দিনের মাথায় আবারও খুনের ঘটনা ঘটল। এবার নিহত হয়েছেন হাসমত উল্যাহ (৭০) নামের এক বৃদ্ধ।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত ১১টার দিকে রামগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশঘর গ্রামের আহমেদ আলী হাজী বাড়িতে।
নিহতের বড় ছেলে শাহীন হোসেন অভিযোগ করেন, বসতঘর দখল করার চেষ্টা থেকে বিরোধের সূত্রপাত। তিনি তার চাচাতো ভাই মো. তোফায়েল (৩৭), মোহান (৩৪), পৌর যুবদল সদস্য মো. সুমন চৌধুরী (৪৫)সহ ৮–৯ জনকে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে দাবি করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ১১টার দিকে হাসমত উল্যার বসতঘর জোরপূর্বক দখল করতে গেলে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাতিজা তোফায়েল ও মোহান ভাড়া করা লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। তারা হাসমত উল্যাহকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে।
গুরুতর অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর তোফায়েল আহম্মেদ ও মোহন পালিয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা মঙ্গলবার সকালে তাদের বসতঘর থেকে আসবাবপত্র বের করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরে স্থানীয়রা দুপুর ১২টার দিকে তোফায়েল ও মোহনের বাড়ির পাশের বাগান থেকে কয়েকটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন।
গত ২৪ নভেম্বর সকালে ভোলাকোট ইউনিয়নের সাহারপাড়া গ্রামে চাঁদা দিতে না পারায় যুবদল নেতা মো. ইউসুফের হামলায় বিএনপি কর্মী ও চা দোকানদার আনোয়ার হোসেন নিহত হন। ঘটনার একদিন পর র্যাব–১১ ঢাকার নিকুঞ্জ এলাকা থেকে মূল আসামি ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল বারী জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটাল মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত চলছে।