যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জ্বালানি কিনতে পারলে ভারত পারবে না কেন, প্রশ্ন পুতিনের

রাশিয়ার জ্বালানি তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে অবিচার বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজেই রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনছে, তখন একই কাজ করার অধিকার ভারত কেন পাবে না।

দুই দিনের সফরে পুতিন নয়া দিল্লিতে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পর ‘ইন্ডিয়া টুডে’ প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নিজেই আমাদের কাছ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কেনে। সেটাও তো জ্বালানি। যুক্তরাষ্ট্রের যদি আমাদের জ্বালানি কেনার অধিকার থাকে, তাহলে ভারতের সেই সুযোগ থাকবে না কেন? এই প্রশ্নটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার যোগ্য, আমরা এটি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত, এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও।’

এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সামরিক খাত ঘিরে বেশ কয়েকটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। সোভিয়েত আমল থেকেই ভারতের অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক ও সামরিক অংশীদার রাশিয়া। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর ভারত দ্রুতই সমুদ্রপথে রুশ তেলের বড় ক্রেতায় পরিণত হয়।

তবে সস্তা রুশ তেল কেনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছে। এর প্রভাব পড়ে ভারতের তেল আমদানিতে; চলতি মাসে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে অপরিশোধিত তেল আমদানি।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, রুশ তেল কিনে ভারত ইউক্রেনে পুতিনের যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে। অন্যদিকে ভারত মনে করে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত এ শুল্ক ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’, বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনও রুশ গ্যাস, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করছে।

বাণিজ্য লেনদেনের সাম্প্রতিক চিত্র তুলে ধরে পুতিন বলেন, ‘চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সামগ্রিক বাণিজ্য লেনদেনে কিছুটা পতন দেখা যাচ্ছে। এটা সামান্য। মোটাদাগে আমাদের বাণিজ্য লেনদেন মোটামুটি আগের মতোই আছে।’

তার দাবি, ভারতে রাশিয়া থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য ও অপরিশোধিত তেলের লেনদেন স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি মোকাবেলায় ভারত-রাশিয়ার কৌশল নিয়ে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের কেউ কেউ এমন শুল্কনীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্বার্থের পক্ষে মনে করেন। পুতিনের ভাষায়, ‘আমরা আশা করি, শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার যে সকল নিয়ম লঙ্ঘিত হচ্ছে, তা ঠিক করা হবে।’