আসাদের পতনের পরও সিরিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি 'গভীর উদ্বেগজনক': জাতিসংঘ

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনের পতনের প্রথম বার্ষিকী আর কয়েকদিন দূরে। তবে অব্যাহত হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন ও ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিবেশে দেশটির বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি 'গভীর উদ্বেগজনক' বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

শুক্রবার (৫ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, গত বছর শত শত মানুষ সংক্ষিপ্ত মৃত্যুদণ্ড, নির্বিচারে হত্যা এবং অপহরণের শিকার হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য এবং প্রাক্তন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছেন। বন্দুকযুদ্ধ, ছুরিকাঘাত, ভোঁতা বলপ্রয়োগ, গোলাবর্ষণ, হাতবোমা এবং যুদ্ধের বিস্ফোরকের কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, অপরাধীদের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী এবং তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। সেই সঙ্গে প্রাক্তন সরকারের বাহিনীর অবশিষ্টাংশ, স্থানীয় মিলিশিয়া এবং অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তিরাও বিশৃঙ্খলায় যুক্ত।

জাতিসংঘের তদন্তকারীরা যৌন সহিংসতা, নির্বিচারে আটক, লুটপাট, বাড়িঘর ধ্বংস, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রতিবেদন নথিভুক্ত করেছেন। পাশাপাশি মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, অনলাইনে এবং রাস্তায় ক্রমবর্ধমান ঘৃণামূলক বক্তব্য আলাউইত, দ্রুজ, খ্রিস্টান এবং বেদুইন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা তীব্রতর করেছে।

এদিকে, আসাদের পতনের পর থেকে সিরিয়ার ভূখণ্ডের ভেতরে বারবার ইসরায়েলি আক্রমণ দেখা গেছে- যার মধ্যে রয়েছে অনুপ্রবেশ এবং অতিরিক্ত এলাকা দখল।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, দামেস্কের কাছে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে এবং অভিযানের সময় গ্রেপ্তার ও বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

তুর্ক উদ্বেগ প্রকাশ করেন, পর্যাপ্ত মানবাধিকার পরীক্ষা ছাড়াই প্রাক্তন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নতুন নিরাপত্তা বাহিনীতে একীভূত করা হয়েছে - এটি পুনরায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, 'গুরুতর অপব্যবহারের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বাহিনীতে প্রবেশ রোধ করার জন্য যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং ব্যাপক নিরাপত্তা খাত সংস্কার অপরিহার্য।'

তিনি সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষকে অতীত ও বর্তমানের সকল মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার এবং দায়ীদের জবাবদিহি করার আহ্বান জানান।