তেঁতুলিয়ায় তীব্র শীত, ঘনকুয়াশায় দিনের বেলাও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে গাড়ি

উত্তরের হিমকন্যা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জেঁকে বসেছে শীত। পৌষ শুরুর আগেই হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত উত্তরের জনপদ। শীতে জনজীবনে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অন্যদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী গত পাঁচ দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘরে।

সর্বশেষ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ৭৭ শতাংশ। টানা ৫ দিন ধরে ১০ ডিগ্রির ঘরে তাপমাত্রা বিরাজমান রয়েছে।

তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোরে ঘনকুয়াশা কুয়াশা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা ভেদ করে সূর্য উঁকি দিলেও উত্তরীয় হিমেল বাতাসে অনুভূত হচ্ছে কনকনে ঠাণ্ডা। সেই সঙ্গে প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে দিনের বেলাও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। ঘনকুয়াশা ও তীব্র শীতের মধ্যেই নিম্ন আয়ের মানুষগুলো কাজে যেতে কষ্ট হলেও জীবিকার তাগিদে চা বাগানে, পাথর তুলতে, কৃষি কিংবা দিন মজুরি কাজে যেতে দেখা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরেই শীত তীব্র হচ্ছে। দিনের বেলায় রোদ থাকলেও রোদের তেজ তেমন দেখা যায়নি। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত কনকনে ঠাণ্ডা অনুভব হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই।

একই কথা বলছেন ভ্যান ও অটোচালকরাও। তারা জানায় শীতের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। এতে করে যাত্রী কমে যাওয়ায় কমেছে উপার্জনও। ঘনকুয়াশার কারণে দিনের বেলাও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চলাচল করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মমিন পাড়া এলাকার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা একই মনে হচ্ছে। দিন দিন শীত বাড়ছে। তরুণদের জন্য এই শীত সহনীয় হলেও আমাদের মতো বয়স্ক ও শিশুদের জন্য খুব দুর্ভোগের। অনেকেই সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত পাঁচদিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘরে অবস্থান করছে। বুধবার সকাল ৯ টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার রেকর্ড হয় ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইভাবে শনিবার থেকে রেকর্ড হচ্ছে ১০ ডিগ্রির ঘরে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এ মাসে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান জানান, এ জেলায় শীতের মাত্রা বেশি। এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় প্রায় ৮ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। আরও লক্ষাধিক মানুষের জন্যে শীতবস্ত্র চেয়ে মন্ত্রণালয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে।