উপকূলে সুপেয় পানি সহজপ্রাপ্য করা হবে: সমবায় মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকার মানুষের জন্য সুপেয় পানি সহজপ্রাপ্য করা হবে। এ জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রিভার্স-অসমোসিসসহ সকল কার্যকর প্রযুক্তি অনুসরণ করা হবে। কিছুদিনের মধ্যে খুলনা ওয়াসার পানি শোধনাগার চালু হবে। উন্নত সেবা পেতে হলে বিশুদ্ধ পানির জন্য ব্যয় একটু বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী দ্বিতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ সব কথা বলেন। ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পানির ন্যায্যতা’ প্রতিপাদ্য স্লোগানে সরকারি-বেসরকারি ৪৫টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে। এর সুফল সাধারণ মানুষ পাবে। 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের সাত কোটি মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করে। পাশাপাশি দেশের পানযোগ্য পানির ৪২ শতাংশ ক্ষতিকর অণুজীবের মাধ্যমে দূষিত। এর সঙ্গে উপকূলীয় ১৯ জেলার তিন কোটি ৫০ লাখ জনসাধারণ সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা ও আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে বাস করছে। বিশ্বের সমস্ত পানির দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ স্বাদু; যার ৭৫ শতাংশ মেরু অঞ্চলে বরফ আকারে রয়েছে। পৃথিবীর ২০ শতাংশ মানুষ পানির সংকট আছে এমন এলাকায় বাস করে। এ গ্রহে থাকা মোট পানির কেবল এক শতাংশই পানযোগ্য ও স্বাদু।

আরও পড়ুন: ভিআইপির বলি তিতাস: দুটি তদন্ত দলের শুনানি গ্রহণ

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলমগীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েকুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সমন্বয়ক ফ্রেড হুইটেভিন।

ইত্তেফাক/অনি