কাশিয়ানীতে ‘স্কুল ফিডিং’ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার দেশের ১৫০টি উপজেলায় ‘স্কুল ফিডিং’ বা ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু করলেও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এর বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। 

এতে নির্ধারিত পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। উদ্বেগজনক বিষয় হলো—কর্মসূচির বাস্তবায়ন সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা কর্মকর্তা এমনকি অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকও সুনির্দিষ্ট তথ্য জানেন না।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কাশিয়ানী উপজেলার ১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ১৬ জন শিক্ষার্থীর জন্য এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার সরবরাহ করার কথা। 

এর মধ্যে রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম; সোমবার বনরুটি ও ইউএইচটি দুধ এবং বুধবার ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও স্থানীয় মৌসুমি ফল দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। নির্ধারিত ওজন অনুযায়ী প্রতিটি বনরুটি ১২০ গ্রাম, ডিম ৬০ গ্রাম, দুধ ২০০ গ্রাম, বিস্কুট ৭৫ গ্রাম এবং ফল ১০০ গ্রাম হওয়ার কথা।

তবে গত ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি কাশিয়ানীতে কার্যত নামমাত্র বাস্তবায়িত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক প্যাকেট তরল দুধ সরবরাহ করেই প্রকল্পের কার্যক্রম দেখানো হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এক মাসের বেশি সময় পার হলেও অনেক বিদ্যালয়ে এখনো কর্মসূচির কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

সরেজমিনে উপজেলার চাপ্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নভেম্বরের ১৯ তারিখ থেকে ডিসেম্বরের ৮ তারিখ পর্যন্ত ১৪ কার্যদিবসে প্রায় ২ হাজার প্যাকেট দুধের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৬৭৮ প্যাকেট। ডিম, বনরুটি, বিস্কুট, কলা কিংবা অন্যান্য মৌসুমি ফল কর্মসূচি শুরুর পর একবারের জন্যও সরবরাহ করা হয়নি।

একই চিত্র দেখা গেছে বরাশুর, কুসুমদিয়া, ভাদুলিয়া, নাওরা ভাদুলিয়া ও সাজাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এমনকি আড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মসূচি শুরুর পর এখন পর্যন্ত কোনো খাদ্যসামগ্রী পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাপ্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এলিদা পারভীন বলেন, ‘১৭ নভেম্বর থেকে মিড ডে মিল কর্মসূচি শুরু হলেও আমরা মাত্র দুই দিন তরল দুধ পেয়েছি। কারা এসব দুধ সরবরাহ করছে তা আমরা জানি না। শিক্ষা অফিস থেকেও কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।’

ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোহিনুর খানম বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে ৯৫ জন শিক্ষার্থী। প্রথম দফায় ২৫৭ প্যাকেট এবং দ্বিতীয় দফায় ১৭১ প্যাকেট দুধ পাওয়া গেছে। এরপর আর কোনো সরবরাহ হয়নি। অন্য খাবারের কথা থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকার জানান, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) যৌথভাবে এ কর্মসূচির খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করছে। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লোকবল সংকটের কারণে গোপালগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় আপাতত শুধু তরল দুধ দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মিড ডে মিল কর্মসূচি কমিটির সভাপতি মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’