রাত নিশুতি। দূরের গির্জার ঘণ্টাটা জানান দিল রাত দুটো বাজে। এশা বিছানায় এপাশ ওপাশ করছে। ঘুম আসছে না। বিছানায় শুয়ে ঘুম না আসাটা আরো বেশি কষ্টদায়ক। খাটের ওপাশে আবিদ ঘুমিয়ে মৃদু নাক ডাকছে। আজ চারদিন হলো আবিদের সঙ্গে কথা বন্ধ। পনেরো বছরের সংসারজীবন তাদের। বিয়ের দু বছর পর থেকেই প্রায় প্রতি মাসেই কোনো না কোনো ইস্যু নিয়ে আবিদের সঙ্গে ঝগড়া, তারপর কথা বন্ধ। দু দিন যেতে পারে না। আবিদ নিজেই নানা কৌশলে বউয়ের মান ভাঙায়। কিন্তু আজ চারদিন হয়ে গেল আবিদের তরফ থেকে কোনো সাড়া পাচ্ছে না এশা। বেড় রুমের নীল আলোয় আবিদের মুখটি দেখতে ইচ্ছে করছে। কেমন যেন মায়া অনুভব করে নিজেই পেছন থেকে ঘনিষ্ঠ হয়। আবিদের ঘাড়ে তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়ে। তর্জনি দিয়ে পিঠে আঁকিবুঁকি কাটে। আশা, এখনি হয়তো আবিদ পাশ ফিরে জড়িয়ে ধরে বলবে—কী ঘুম আসছে না! ঘুমের মধ্যে আবির বিরক্ত হয়ে এশার হাত সড়িয়ে দেয়।
আহ্, কী শুরু করলে ঘুমাতে দাও।
এশা ছিটকে সরে আসে। আবিদ এতটা নিষ্ঠুর হতে পারল! রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে। কেন নিজে থেকে ওর কাছে গেলাম।
এশা সর্ন্তপণে বিছানা ছেড়ে নেমে আসে। সাইড টেবিল থেকে আবিদের মোবাইলটি তুলে নেয়। মেসেঞ্জারে গিয়ে মেসেজ চেক করতে থাকে। আবিদের এরকম আচরণের কারণ জানতেই হবে। ইদানীং যে হারে পরকীয়া বেড়েছে। সেদিন শপিংমলে আবিদ তার মেয়ে কলিগের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। কী যেন নাম, জিনিয়া। বেশ সুন্দরী, সাদা-কমলা ছাপার স্লিভলেস কামিজ আর আধুনিক সাজসজ্জায় মেয়েটিকে বেশ ভালোই লাগছিল।
স্লামালাইকুম ভাবী, কেমন আছেন? আবিদ ভাই তো সবসময় আপনার কথা বলে। আপনার হাতের রান্না অসাধারণ। আবিদ ভাইকে তো আমরা খুব পছন্দ করি।
জি, বাসায় আসবেন একসময়।
ভেতরে ভেতরে জ্বলে যায় এশা। ও, অফিসে তাহলে ভালোই গল্প চলে।
এশা গত একমাসের মেসেজ চেক করে। অফিসিয়াল দু-চারটি ইনফরমেশন আর বিভিন্ন কোম্পানির অফার ছাড়া আবিদকে ধরার মতো তেমন কিছু খুঁজে পায় না।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পাশের রুমে মেয়ের কাছে আসে। এগারো বছর বয়সের আরশি তাদের একমাত্র মেয়ে। পান্ডা পুতুলটিকে আঁকড়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে। ঘুমন্ত মেয়ের দিকে তাকিয়ে এশা অবাক হয়। বেশ লম্বা হয়েছে আরশি। মনে হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে মাকে ছাড়িয়ে যাবে। অদ্ভুত মায়ায় মনটা ভরে যায়। আহারে, একা একা বড় হচ্ছে মেয়েটা। পর পর দুটো মিসক্যারেজ। মেয়েটিকে সময় দেওয়ার জন্য স্কুলের চাকরিটা পর্যন্ত ছেড়ে দিল এশা।
মশারি উঠিয়ে ঘুমন্ত মেয়ের মাথায় হাত বুলায় কিছুক্ষণ। আরশি ঘুমের মধ্যে পাশ ফিরে শোয়।
মেয়েকে বিরক্ত না করে বারান্দায় এসে দাঁড়ায় এশা। শহরের এ পাশটা বেশ নির্জন। ছয়তলা ফ্ল্যাটবাড়ির চারতলায় এশারা থাকে। ভাড়া অনুযায়ী বাসাটা তেমন সুবিধার না হলেও বারান্দাটা এশার খুব প্রিয়। তাছাড়া আরশির স্কুলটাও কাছে।
এশা বারান্দার গ্রিল ধরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। এখান থেকে গির্জার চূড়াটা দেখা যায়। রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক আলোতে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তিটি আরো বেশি মন খারাপ করে দেয় এশার। শীতল হাওয়ার ঝাপটা লাগে চোখে মুখে। সারাদিন ভাপসা গরম ছিল। কোথায় যেন বৃষ্টি হচ্ছে। ভাবতেই বৃষ্টির ফোঁটা এসে মুখে লাগে। জোরে বৃষ্টি হচ্ছে। বারান্দার ভেতরে চলে আসছে পানি। এশা দরজা লাগিয়ে বিছানায় চলে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমে তলিয়ে যায়। ঘুমের মধ্যে টের পায় না শীতে কুকড়ে থাকা এশাকে দুটো ভালোবাসার হাত কাঁথা জড়িয়ে দিয়েছে।
২.
ঝগড়ার শুরুটা এভাবে। প্রতিদিনের মতো কিছু না কিছু খাবার হাতে নিয়ে আবিদ অফিস থেকে বাসায় ফেরে। আজ আরশির রেজাল্ট দেবার কথা। বাসায় ঢুকে নিশ্চয়ই শুনতে হবে বাবা আজ কোন রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাবে। আমি ঐটায় যাব।
কলিংবেলের শব্দে দরজা খুলে আরশি, বাবাকে দেখেই ঠোঁটে আঙুল দিয়ে সাবধান করে।
বাবা, মা দুপুরে কিছু খায়নি।
আবিদ ডাইনিং টেবিলের ওপর খাবারে ঢাকা দেওয়া দেখে। কেন কী হয়েছে?
আমি ম্যাথে কম পেয়েছি।
এই রে। কাজের চাপে মেয়েকে একদম সময় দিতে পারেনি। এ নিয়ে বেশ কয়দিন রাগ করেছে এশা। আবিদ হাতের জিনিসগুলো টেবিলে রাখতে রাখতে বলে, কত পেয়েছ? ফেল করনি তো মা।
আরশি চোখ বড় করে বলে—না বাবা, অল্পের জন্য শুধু প্লাসটা আসেনি।
আবিদ ভয়ে ভয়ে বেড় রুমে ঢোকে। উকি দিয়ে দেখে এশা বারান্দায় বসে আছে। অফিস থেকে ফিরতেই গরমে ঘামে জবজবে হয়ে আছে শার্ট। শার্ট খুলতে খুলতে গলা খাকারি দেয়। এশার ওঠার শব্দ না পেয়ে জোরেই বলে—এশা, কোথায় গেলে, এক গ্লাস ঠান্ডা পানি দেবে? এশা কোনো কথা না বলে উঠে গিয়ে এক গ্লাস বরফ ঠান্ডা পানি আর পিরিচে কিছু বাদাম এনে সাইড টেবিলে রাখে। আবিদ একবারে পানিটুকু খেয়ে নেয়।
এশা পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলে হাত চেপে ধরে কাছে টানে। আর যায় কোথায় সারাদিরের ক্ষোভ, আরশির ক্লাসমেটদের মায়েদের হাসিহাসি মুখ মনে করে মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়।
—আর ঢং করতে হবে না।
সারাদিন অফিস নিয়ে থাকো। কতদিন বলেছি, নিজে পড়াও, না হয় একটা ভালো টিচার রাখো। আমার কোনো কথাই কানে যায় না। যাবে কী করে। সারাদিন পাশে সুন্দরী মেয়ে নিয়ে বসে থাকলে, বউ-বাচ্চার কথা মনে থাকবে কী করে।
আহ! এশা বাজে কথা বলো না তো, মেয়েটি শুনতে পাচ্ছে।
এক কথায় দু কথায় কথা বাড়ে।
আবিদ চুপ করে যায়।
৩.
অফিসে আবিদকে খুব বিষণ্ন দেখায়। আবিদ হাসান এই অফিসের একজন চৌকস কর্মকর্তা। হাসিখুশি প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা মধ্যবয়সী পুরুষ। খেলাধুলা আর সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে সদাই সপ্রতিভ। তাকে এরকম বিষণ্ন চেহারায় দেখে এগিয়ে আসে জুনিয়র অফিসার জিনিয়া—জিনিয়া বছরখানেক হলো এ অফিসে ঢুকেছে।
সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় ফেরত আধুনিক চটপটে মেয়ে জিনিয়া সারাক্ষণ অফিসটাকে মুখর করে রাখে।
আবিদ বাসা থেকে নাস্তা করে আসেনি। অফিসে নাস্তা করতে দেখে জিনিয়া বলে, কী আবিদ ভাই, মন খারাপ। ভাবীর সাথে ঝগড়া হয়েছে বুঝি।
কথা বলার মানুষ পেয়ে আবিদও খুশি হয়।
কী করে বুঝলে?
বুঝি, বুঝি, আমরা মেয়েরা সব বুঝি।
আর বলো না, এই আরশিকে নিয়ে।
মিডটার্ম পরীক্ষায় ম্যাথে কম পেয়েছে। এই নিয়ে হুলুস্থূল। আমি আছি নানান ঝামেলায়। দেখেছো তো অফিসে কী চাপ। এর মাঝে বড় দুলাভাইয়ের ক্যানসার ধরা পড়েছে থার্ড স্টেজে। বাইরে নিয়ে যাবে। আপা সারাদিন কান্নাকাটি করে। ছেলেমেয়ে দুটোর এখনো লেখাপড়া শেষ হয়নি।
এর মধ্যে তোমার ভাবী মেয়ের জন্য কেন টিউটর পাচ্ছি না তা-ই নিয়ে রাগ।
জিনিয়া হেসে ফেলে, ও এই ব্যাপার। আর বলবেন না। আমার বড় ভাই আর ভাবীর মধ্যে একই অবস্থা। সারাক্ষণ আমাদের অর্কটাকে নিয়ে আছে। অর্ক মানে বড় ভাইয়ের একমাত্র ছেলে। ক্লাস থ্রিতে পড়ে। এখনই ভাবী এত সিরিয়াস, ভাইয়া-ভাবীর অবস্থা দেখে ডিসিশন নিয়েছি—আমি কখনো বিয়েই করবো না।
তা-ই নাকি, তাহলে সেদিন কফিশপে যে দেখলাম সেই হাই হ্যান্ডসামের কী হবে?
মুহূর্তে যেন লাল হয় জিনিয়া। কই, কাকে দেখলেন? বলেই মনে পড়ে গত সপ্তাহে সোহান এসেছিল তার অফিসে। ওকে নিয়ে অফিসের পাশেই একটা কফিশপে—
ও আচ্ছা ও তো সোহান। আমার ভার্সিটির বেস্ট ফ্রেন্ড। এখনো কোথাও ঢোকেনি বিসিএস-এর জন্য ট্রাই করছে। কী যে বলেন আবিদ ভাই। কিছুক্ষণ গল্প করে ডেস্কে চলে যায় জিনিয়া।
আবিদ কাজে মন দেয়। কিছু ফাইল আছে টেবিলে। একটু দেখে ছাড়তে হবে। কাজে মন বসছে না। বড় দুলাভাইয়ের জন্য দুশ্চিন্তা হচ্ছে। কিছু হয়ে গেলে আনা, রাফি ওদের কী হবে। আনা অনার্স ফাইনাল দেবে, বিয়ের প্রস্তাব আসছে। রাফি এখনো কলেজে।
তিন বোনের এক ভাই আবিদ। বোনদের আদরে বড় হওয়া আবিদ হাসান অনেক দায়িত্ব অনুভব করে। নানান দুশ্চিন্তা এসে ভিড় জমায়।
আবিদ ভাবে, আজ অফিস থেকে আপার বাসা হয়ে ফিরবে। ওদের পাশে থেকে মানসিক শক্তি জোগাতে হবে।
৪.
আরশির স্কুলে ভ্যাকেশন চলছে। গতরাতে ছোট খালা ফোন করেছিল। ক দিনের জন্য আরশিকে দিয়ে যেতে বলেছে। ছোট বোন দিশার দুই ছেলেমেয়ে। আরশি খুব আনন্দে থাকে ওদের বাসায় গেল। তিন ভাইবোন মিলে এত আনন্দ করে যে, আরশি আসতেই চায় না।
এশা পাঠাতে চায় না ওকে। স্কুল বন্ধ হলেও কোচিং, গানের ক্লাস সব মিলিয়ে পড়া নষ্ট হবে। আরশি জেদ ধরে।
শেষ পর্যন্ত মাকে রাজি করায় আরশি। কথা হয় সকালে আবিদ অফিসে যাবার সময় আরশিকে নামিয়ে দিয়ে যাবে দিশার বাসায়।
আবিদ বেশ ফরফুরে মেজাজে অফিসের জন্য রেডি হচ্ছিল। পোশাক-পরিচ্ছদে আবিদ বরাবরই বেশ শৌখিন। পাটভাঙা ইস্ত্রি করা সাদা নীল চেক শার্টটি পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ব্যাকব্রাশ করে। আবিদের মাথায় এখনো বেশ চুল। কাজের চাপে মাথার মাঝখানে এখনো সাদা তালু বের হয়নি। পারফিউম স্প্রে করে।
দূরে দাঁড়িয়ে শিকারি বেড়ালের মতো তাকিয়ে এশা। এখনো মেঘ কাটেনি। পারফিউমের ঘ্রাণে টিকতে না পেরে বলেই ফেলে—
এত ফিটফাট হয়ে কোথায় যাওয়া হচ্ছে?
আবিদ আড়চোখে এশাকে দেখছিল।
গোমড়ামুখে দাঁড়িয়ে থাকা বউকে টিপ্পনি কেটে বলে।
কতদিন পরে শ্যালিকার সাথে দেখা হবে। তাছাড়া আজ অফিসে একটা মিটিং আছে।
মিটিং না ছাই, কাকে দেখানোর জন্য, সেটা তো বুঝতেই পারছি।
সিরিয়াল দেখে দেখে তোমার মাথায় সব আজে বাজে চিন্তা ঢুকছে। এক কাজ করো, সিরিয়াল দেখা বাদ দিয়ে অনলাইনে বিজনেস শুরু করো। তাতে করে বেশি টাকা দিয়ে আরশির জন্য টিউটর রাখতে পারবে। আমারও কিছুটা হেল্প হবে।
এশার চোখ দুটো বস্ফািরিত হয়।
আমি-আমি সিরিয়াল দেখি।
আবিদ বলে ফেলেই বুঝতে পারে আগুনে ঘি ঢালা হয়েছে। এশা ঝড় তোলার আগেই আরশিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
৫.
ওরা চলে গেলে বেশ কিছুক্ষণ ঝিম মেরে বসে থাকে এশা।
বিশেষ দু-একটি সিরিয়াল দেখার জন্যে টিভির সামনে বসে বটে, তবে সে রকম নেশা নেই এশার। সারাদিন কত কাজ মেয়েকে পড়ানো, স্কুলে নেওয়া, বাসার কাজ।
রাগে দুঃখে এশার চোখে পানি চলে আসে। আবিদের খোঁচা হজমের চেষ্টা করে। একসময় মন শান্ত হয়ে আসে। সত্যিই তো বর্তমান বাজারে আবিদের একার পক্ষে সংসার চালানো কত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
মনটা একটু হালকা হলে এশা ঘরদোর পরিষ্কারে নেমে পড়ে। আজ মনে হচ্ছে অফুরন্ত সময়। আরশি দিশার বাসায়। আবিদের ফিরতে রাত হবে। এশা ভাবে, আজ সময়টা নিজের জন্য দেবে। আবিদের প্রস্তাবটা ভাবায় তাকে। বান্ধবী তন্নীর একটা বুটিক শপ আছে। সংসার খরচ থেকে বাঁচিয়ে হাতে কিছু টাকাও জমেছে। তন্নীর সঙ্গে কিছু একটা করা যায় কি না। ওর ওখানে যেতে হবে।
গোসল সেরে চুলটা শুকিয়ে নেয়। আলমারি থেকে দু-তিনটি শাড়ি বের করে সোনালি জড়ির সুতায় কাজ করা পাড়ের শেওলা রঙের তাঁতের শাড়িটি বেছে নেয়। এই গরমে সুতি শাড়িই ভালো। সুন্দর করে শাড়িটি পরে হালকা মেকআপ নেয়। চিকন করে কাজলের টান আর ঠোঁটে লাইট পিংক লিপস্টিক।
লম্বা একহারা গরমের এশার শরীরে এখনো বাড়তি মেদের বাহুল্য নেই। লম্বা চুলগুলো নিয়ে হাতখোপা করে একটা রুপার কাঁটা দিয়ে আটকে দেয়। ড্রেসিংটেবিলের ড্রয়ার খুলে অর্নামেন্ট বক্স থেকে মুক্তার সিঙ্গেল সেটটা বের করে পরে। আবিদের দেওয়া উপহার গত বছরের ম্যারেজ ডেতে।
আয়নায় তাকিয়ে সবুজ একটা টিপ পরে নেয়। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজেকে দেখে নিজেই অবাক হয়ে যায় এশা। এত সুন্দর লাগছে তাকে। মেদহীন পেটে হাত রেখে মনটা বিষণ্ন হয়। এখনো স্বামীকে বশে রাখার মতো যথেষ্ট উপাদান তার শরীরে। কিন্তু আবিদ এরকম হয়ে যাচ্ছে কেন।
ভাবনায় ছেদ পড়ে কলিং বেলের শব্দে। এশা বিরক্ত হয়ে দরজা খুলতে যায়। এই বেলা দুপুরে কে এল আবার। সাধারণত এশারা কেউ বাসায় থাকে না এসময়। পিন হোলে দেখে নিয়ে দরজা খুলে আবাক হয়ে যায়। আবিদ দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছে। হাতে কিছু বেলী ফুলের মালা।
কী, দরজা হাফ খুলে স্ট্যাচু হয়ে গেলে নাকি। ভিতরে আসতে দেবে না। আর এত সেজেগুজে কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি?
এশা দরজা খুলে সরে আসে। খুশির বিদ্যুত্ খেলে যায় মনে। মুখে কপট আভিমানের সুর টেনে বলে তন্বীর বাসায় যাচ্ছি।
আর অফিস থেকে এখনই ফিরলে যে, আমি তো দুপুরে কিছু রান্নাও করিনি।
আবিদ পেছন থেকে জরিয়ে ধরে এশার কাঁধে মুখ গুঁজে দেয়। খোঁপায় বেলী ফুলের মালাগুলো জড়িয়ে গালে গাল মিশিয়ে বলে, ভাবলাম আর অফিস করে কী হবে।
বউয়ের যখন এত মনখারাপ! তাই ছুটি নিলাম আজকে।
এশা আবিদের হাত দুটো ছড়ানোর বৃথা চেষ্টা করে। না পেরে ঘুরে স্বামীর বুকে মাথা রেখে ফুঁপিয়ে ওঠে। তুমি খুব খারাপ। তুমি খুব খারাপ!
দু ফোঁটা সুখের অশ্রু গড়িয়ে পড়ে এশার চোখ থেকে।